শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আর্চবিশপকে এক বছরের সাজা

শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আর্চবিশপকে এক বছরের সাজা

174
0

১৯৭০ সালের ৭০ এর দশকে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার দায়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক আর্চবিশপকে ১২ মাসের বন্দিত্বের দণ্ড দিয়েছেন আদালত।

অভিযুক্ত অ্যাডেলেইডের আর্চবিশপ ফিলিপ উইলসন সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্যাথলিক, যিনি এই ধরনের কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হলেন।

মঙ্গলবার দেয়া রায়ে সাজা দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, বন্দিত্বের সময়টা তাকে জেলে না-ও রাখা হতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, উইলসনকে নিজ বাসভবনেই ‘গৃহবন্দী’ হিসেবে সাজা কাটাতে হবে। তবে প্রথম ৬ মাস পর তিনি প্যারোলে মুক্তির সুযোগ পেতে পারেন।

গত মে মাসে ফিলিপ উইলসনের বিরুদ্ধে নিউ সাউথ ওয়েলসে শিশুদের যৌন নির্যাতনকারী পুরোহিত জেমস প্যাট্রিক ফ্লেচারের অপরাধ লুকানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

এপ্রিলে মামলা চলাকালে উইলসন নিউক্যাসেলের স্থানীয় আদালতকে বলেন, জেমন ফ্লেচারের কাজ সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিলো না। সিডনি থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে মাইটল্যান্ডে তিনি তখন সহকারি পুরোহিত ছিলেন। তখনকার এই ঘটনা তিনি মোটেও জানতেন না।

এ ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ওই সময় উইলসন যৌন নিপীড়নের শিকার ছোট ছোট ছেলেদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি চার্চের সম্মান রক্ষার্থে।

মেতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরই নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন আর্চবিশপ উইলসন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি তিনি। (চ্যানেল আই অনলাইন )

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’