অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের আইনে ফের পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বের আইনে ফের পরিবর্তন

162
0
শিরোনামের জন্য ছবিঃ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিত্ব আইন

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব প্রদানের আইনে পরিবর্তনের বিল আবারও দেশটির সরকারী দপ্তরে ফিরে এসেছে। নাগরিকত্ব প্রদানের আইন আরও কঠিন করার এই বিলটি ২০১৭ সালে সংসদে উত্থাপিত হয়। সেসময় বিরোধী দলের চাপের মুখে বিতর্কিত বিলটি ক্রসবেঞ্চ ভোট গ্রহণ পর্যন্ত গড়িয়েছিল। গত বছর ১৮ অক্টোবর ক্রসবেঞ্চে বিলটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস হয়নি। তবে দেশটির সংসদের আগামী অধিবেশনে এই বিল আবার পেশ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে শুরু দেশটির সংসদের নতুন অধিবেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশ নতুন প্রস্তাবিত আইনগুলোর মধ্যে নাগরিকত্ব প্রদানের এ কঠিন আইনটি তালিকাবদ্ধ রয়েছে। এ অধিবেশনে নাগরিকত্বের পরিবর্তিত আইনের বিলটি পাশ হবে বলে আশা করছে টার্নবুল সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব আইনে আমূল পরিবর্তন এনে গত বছর এপ্রিলে একটি বিল পেশ করে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী পিটার ডাটন। নতুন আইনে নাগরিকত্ব প্রাপ্তির প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়। প্রস্তাবিত আইনে নাগরিকত্ব গ্রহণের পূর্বে আবশ্যিক শর্তে এক বছরের পরিবর্তে চার বছর দেশটিতে স্থায়ী বসবাস করতে হবে। এ ছাড়া ইংরেজি ভাষার দক্ষতা হতে হবে অনেক বেশি যা কিনা আইইএলটিএস এ ন্যূনতম ৬ স্কোরের সমমান। পাশাপাশি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি জীবনের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে কার্যের প্রমাণও জমা দেওয়ার আবশ্যিক শর্ত রাখা হয়। এরই মধ্যে গত এপ্রিলে নতুন আইনের প্রস্তাব রাখার পর এ বছর এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ লাখেরও বেশি  নাগরিকত্বের আবেদনপত্র জমা পড়ে অভিবাসন বিভাগে। প্রায় বেশির ভাগ আবেদনেরই এখনও কোনো ফলাফল আসে নি।

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’