অস্ট্রেলিয়াতে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চীনের হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ

অস্ট্রেলিয়াতে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চীনের হুয়াওয়েকে নিষিদ্ধ

172
0

অস্ট্রেলিয়াতে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান চীনের হুয়াওয়েকে অস্ট্রেলিয়ায়  ফাইভজি প্রযুক্তি বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের নেটওয়ার্কে ইতোমধ্যে ফাইভজি প্রযুক্তি নিয়ে যেসব কাজ শুরু করেছে হুয়াওয়ে সেগুলো দেশটির নেটওয়ার্কে বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম স্মার্টফোন ও প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটিকে এমন সব কাজকর্ম বন্ধ করতে বলে চিঠিও দিয়েছে বলে জানাচ্ছে সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।

চীনা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের এমন সিদ্ধান্ত দেশটির গ্রাহকদের হতাশ করবে। হুয়াওয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ফাইভজি প্রযুক্তির লিডার হিসেবে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলছে, হুয়াওয়ে তাদের প্রযুক্তি দিয়ে যেসব কাজ করছে সেখানে চীন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে তথ্য পাচার করছে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, টেলিকম যন্ত্রপাতি সরবরাহ একটি প্রতিষ্ঠান ‘যারা একটি বিচারিক আদেশে বিদেশী সরকার আইনের পরিপন্থি কাজ করেছে, যা অস্ট্রেলিয়ার আইনের লঙ্ঘন’ তাই প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত আর ফাইভ জি নিয়ে কোন কাজ করতে দেয়া হবে না। তারা দেশটির নেটওয়ার্কে অযাচিত প্রবেশ করতে পারে না।

তবে ওই বিবৃতিতে হুয়াওয়ে বা চীনের নাম কোথাও ব্যবহার করা হয়নি।এমন বিষয়ে নিরাপত্তা নিয়ে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের সঙ্গে এমন আঁতাত করা বা যৌথভাবে কাজ করার কোন প্রশ্নই ওঠে না। এমন কী তাদের কোন শেয়ার হোল্ডার নেই বলেও জানায়।গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, গত ১৮ মাস থেকে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা অবণতি হচ্ছে।

ক্যানবেরা বলছে বেইজিং তাদের কিছু স্থাণীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। আগামী বছর নাগাদ ফাইভজি চালু করার প্রত্যয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী কাজ করছে। হুয়াওয়ে তাদের অন্যতম। (সূত্রঃ নিউজজি)

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’