কোরিয়া দ্বীপাঞ্চল নিকট ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত হবে

কোরিয়া দ্বীপাঞ্চল নিকট ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত হবে

159
0
ছবি: সংগৃহিত

মোঃ শফিকুল আলম:দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসেডেন্ট মন যাই ইন এর প্রত্যাশা কোরিয়া দ্বীপাঞ্চলনিকট ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত হবে। নিরপেক্ষ পারমানবিক অস্ত্র বিষেশজ্ঞদের মূল মিসাইল এলাকা পরিদর্শনের জন্য খুলে দিতে উত্তর কোরিয়া সম্মত হয়েছে।দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসিড্ন্ট এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক অস্ত্রমুক্ত কোরিয়ান অন্চল প্রতিষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এবছরের শেষ নাগাদ দক্ষিন কোরিয়ার সিউল সফরের কথা জানালেন।এটি হবে উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার দক্ষিন কোরিয়ার প্রথম রাজধানি সফর।এ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার কোনো রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান দক্ষিন কোরিয়া সফর করেননি।
দুই নেতা দুই দিনের পিয়ংইয়ং সম্মেলনে বিশ্ব গনমাধ্যমের সামনে একটি ডিকলারেশন সাইন করলেন।এ বছরের শেষ নাগাদ দুই দেশের মধ্যে রেল এবং সড়ক যোগাযোগের কাজ শুরু হবে।
“শান্তি এবং উন্নয়ন আজ পিয়ং ইয়ং এ জন্মালো,” দক্ষিন কোরিয়ার প্রেসিড্ন্ট মুন বললেন।
“আমরা শান্তি এবং উন্নয়নের হাত দৃঢ়ভাবে আঁকরে ধরবো; যাতে করে আমরা বিভক্তির দুর্দশার শীঘ্রই অবসান ঘটাতে পারি,” উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম বললেন।
চাইনিজ বর্ডারে অবস্থিত “ডংচাঙড়ি ” মিসাইল ইন্জিন পরীক্ষণ এলাকা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে উত্তর কোরিয়া সম্মত হয়েছে। পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত রাষ্ট্রসমূহের পরমানু বিষেশজ্ঞদের এলাকা পরিদর্শনেরও অনুমতি দেয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট কিম শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত এক ঘোষনায় এমনকি ইয়ংব্যন পরমানুশক্তি গবেষনা কেন্দ্র-ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে চান যদি ১২ জুন অনুষ্ঠিত উত্তর কোরিয়া-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আলোকে উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে ছাড় দেয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট মুন বললেন যে প্রেসিডেন্ট কিম কোরিয়ান পেনিনসুলায় পরিষ্কারভাবে পরমানু অস্ত্রমুক্তির পথ প্রদর্শন করেছেন।এবং তাঁর দেশ, দেশের জনগন এবং বিশ্ববাসীর আকাঙ্খার সাথে একাত্ম হয়েছেন।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এ্যাকশনের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ কতটা অগ্রসর হবে তা’ নির্ভর করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত মাসে অনুষ্ঠিতব্য পিয়ংইয়ং সফর সেক্রেটারী অব স্টেট মাইক পম্পেও কর্তৃক বাতিল করেছেন এবং উত্তর কোরিয়া পরমানু অস্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত শান্তিচুক্তি করবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট মি: মুন বলেন, “পিয়ংইয়ং-এ ১২ জুন অনুষ্ঠিত উত্তর কোরিয়া-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের আলোকে পূণরায় দু’দেশের মধ্যে সংলাপ শুরু হওয়া প্রয়োজন।”
গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের গবেষক জনাব আন্দ্রে আব্রাহামিয়ান ১২ জুনের পিয়ং ইয়ং বৈঠকটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার প্রথম পয়েন্ট হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে মি: মুন পেছনের রুদ্ধদ্বারে দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনায়নে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিলেন।
দুই কোরিয়ান নেতার বৈঠকের পরপরই মি: ট্রাম্প টুইট করেছেন কিন্তু তিনি উত্তর কোরিয়ার সাথে কোনো ডিল করবেন কি-না সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি।
মি: ট্রাম্প শুধু দুই নেতার ডিকলারেশন হুবহু উল্লেখ করেছেন।এবং ২০৩২ সালে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক গেইমস্ হোস্ট করার জন্য উভয় দেশ যৌথভাবে আয়োজনের জন্য যে আবেদন করবে তা’ও টুয়িটারে এ উল্লেখ করেছেন।

মোঃ শফিকুল আলম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

Facebook Comments

You may also like

ঋনযুদ্ধে পর্যুদস্ত এক বঙ্গবীর

ফজলুল বারী:নির্বাচনের মনোনয়নের প্রাথমিক বাছাই পর্বে বিশেষ কিছু