ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের প্রাথমিক তদন্ত শুরু

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের প্রাথমিক তদন্ত শুরু

103
0
নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি (ছবিঃ সংগৃহিত)

হেগে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান প্রসিকিউটর মিয়ানমার থেকে শত শত হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বল প্রয়োগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে যেতে বাধ্য করার ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন।

প্রসিকিউটর ফাটাও বেনসৌদা পূর্ণ তদন্তের মেরিট প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে প্রাথমিক তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

বেনসৌদা বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোস্ঠীর দেশ থেকে জোরপূর্বক উৎপাটন, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন, হত্যা, নারীদের ধর্ষন, গুম, বাড়ীঘর ভাংচুর, পুড়িয়ে দেয়া এবং তাদের সম্পত্তি লুন্ঠনের মতো অপরাধ সংঘটনের বহু অভিযোগ রয়েছে।”

ইউ এন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের মতে আগস্ট ২০১৭ থেকে মিয়ানমার মিলিটারী ব্যাপক সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষন, নির্যাতন এবং বাড়ীঘর পুড়িয়ে দিয়ে ৭০০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলমানকে দেশ ত্যাগ করে প্রতিবেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করে।

মিয়ানমার আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল আদালতের সদস্য না হলেও আন্তর্জাতিক আদালতের জাজ প্রধান প্রসিকিউটর বেনসৌদাকে তদন্তের অনুমতি দিয়েছেন।জাজ একটি ল্যান্ডমার্ক রুলিং- এ বলেছেন যেহেতু প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্বাসনে বাধ্য হয়েছে এবং বাংলাদেশ তাতে এ্যাফেক্টেড হয়েছে সেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতের এ্যাকশনে যাওয়ার এখতিয়ার রয়েছে। কারন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য।

আন্তর্জাতিক আদালতের জাজ বেনসৌদাকে গ্রহনযোগ্য সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করতে বলেছেন।

যখন কোনো দেশ তাদের নিজস্ব আইনের আওতায় কোনো ক্রিমিনালকে শাস্তি প্রদানে অপারগ বা অনুৎসাহী হয়ে থাকে তখন আন্তর্জাতিক আদালত কথিত ক্রিমিনালদেরকে আইনের আওতায় আনায়নে শেষ ভরসা।তদন্তকালীন সময়ে প্রসিকিউটরগন সংশ্লিষ্ট দেশের সম্পর্কিতদের সাথে আলোচনা এবং তথ্যের পর্যালোচনা করবেন।

ইউএন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার দিনই বেনসৌদার তদন্তের ঘোষনা এলো। এই প্রসিকিউটরগন ইউ এন মিশনের রিপোর্ট গভীরভাবে পর্যালাচনা করবে।এই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেনি বলেও এই প্রতিবেদনে সমালোচনা করা হয়।

তিন সপ্তাহ পূর্বে ইউ এন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন -৪৩২ পৃষ্ঠার প্রাথমিক প্রতিবেদনে তাদের সুপারিশমালাও রেখেছিলেন।

মিশন প্রধান বা টীম চেয়ারম্যান মারজুকি দারুস্ম্যান হিউমান রাইট কাউন্সিলে প্রতিবেদন প্রকাশকালে বলেন, “অত্যন্ত দু:খ এবং ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি আমরা যা’ ভেবেছিলাম ঘটনা বিশ্লেষনের পর যা’ দেখলাম তা’ ছিলো অপ্রত্যাশিত।আমরা যা’ পেলাম তা’ শুধু মানবাধিকার লংঘনই নয়; আন্তর্জাতিক আইনে সংঘটিত সর্বোচ্চ অপরাধ বলে বিবেচিত হয়েছে।”

টীম পুনশ্চ পুনশ্চ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে মিয়ানমারের কয়েকজন টপ জেনারেল কে যুদ্ধপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গনহত্যার অভিযোগে প্রসিকিউট করা আবশ্যক।
জেনেভায় মিয়ানমারের এ্যাম্বাসেডর ক্যাও মো টুন্ মিশন রিপোর্টকে একতরফা বলে অভিহিত করেছেন এবং রিপোর্টটিকে বিভ্রান্তিকর বলেছেন।তিনি এই রিপোর্ট মিয়ানমারের জাতীয় শান্তি এবং বিবাদমান গ্রূপগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রচেষ্টা ব্যাহত করবে বলে মনে করেন।

মোঃ শফিকুল আলম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Facebook Comments

You may also like

ডিজিটাল গুজবের অবসান হোক

অপশক্তি সব সময় গুজব, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাকে আঁকড়ে