ব্রেক্সজিট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে দ্বিতীয়বারের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ

ব্রেক্সজিট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে দ্বিতীয়বারের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ

82
0
ব্রেক্সজিট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে দ্বিতীয়বারের জন্য রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠানের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ রয়েছে। যদিও তিনি দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন ।
ব্রেক্সজিট এখন একটি গোলমেলে অবস্থায় রয়েছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানে দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ওপর চাপ অব্যাহতভাবে বাড়ছে।দু’বছর পর সময় এসেছে ব্রিটিশ জনগনের কাছে ফিরে গিয়ে আরেকবার জিজ্ঞেস্ করার যে তারা এখনও ব্রেক্সজিট চায় কি-না।
দু’বছর অতিবাহিত।ব্রেক্সজিট সমর্থক জনগোস্ঠী বিক্ষুব্ধ এবং তাদের ভাষা হয়তো একরকমের ‘আমরা ব্রেক্সজিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলাম।তোমরা রাজনীতিকরা ব্যবস্থা গ্রহন করো।’ যদি একটি রেফারেন্ডাম গনতান্ত্রিক, কেনো আরেকটি নয়?
ট্রেজারী মিনিষ্টার মেল স্ট্রাইড গত বুধবার সরকারের চেকারস্ ব্রেক্সজিট পরিকল্পনা – সতর্কতা এবং প্রতিক্রিয়া অবলোকনে অগ্রসর হওয়ার নীতি এমন পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে যা’ দ্বিতীয় রেফারেন্ডামে যেতে শেষাবধি বাধ্য করতে পারে বলে সতর্ক করে দেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠানের বিষয় বার বার প্রত্যাখ্যান করে বলেন দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম ব্রিটিশ গনতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল হবে।এমনকি লেবার পার্টিও দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম সাপোর্ট করছেনা।
উভয় দলের নীতিনির্ধারকদের ক্ষেত্রেই একটা ভয় কাজ করছে যে দ্বিতীয় রেফারেন্ডামটি জ্বলন্ত ব্রেক্সজিটের শুকনো আবর্জনায় ঘৃত ঢেলে দেয়ার শামিল হবে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের প্রশ্ন তাহলে কি বৃটেনে গনতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে? গনতন্ত্র একদিন চার্চিল এনেছিলেন সে’ পদ্ধতি কি অন্য সকল পদ্ধতির চেয়ে সবচেয়ে খারাপ সরকার পদ্ধতি?
অবশ্যই বা নিশ্চিতভাবে বলা যায় ব্রেক্সজিট নিম্নলিখিত অদ্ভুততম এবং অত্যন্ত খারাপ বৈশিষ্ট্যমন্ডিত:
* ব্রেক্সিজিট একটি আপোষরফায় শেষ হবে যা’ বৃটেনের জনগন চায়নি।
* অনেক এমপি যারা ব্রেক্সজিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো তারা এখন ব্রেক্সজিটের বিপক্ষে।
* জনসংখ্যাতাত্ত্বিকদের মতে প্রকৃতপক্ষে ব্রেক্সজিট হলে সেটি অধিকাংশ মানুষের কাছে আর জনপ্রিয় হবেনা।
* আয়ারল্যান্ডের অর্ধাংশ ইউ এর থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলো; কিন্তু ইউকে এমনকি অর্ধাংশ তাদের সাথে রাখতে আগ্রহী নয়। অন্যদিকে স্কটল্যান্ড ইউ এর সাথে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলো।
* ইউ মনে করে তাদের সাথে ইউকে’র অপ্রত্যাশিত বিচ্ছেদ বৃটেনের ভবিষ্যত পার্লামেন্টে জনগনের ভোটাধিকার হনন করবে।
এটি সত্য যে গনতন্ত্রের পবিত্রতা রক্ষা করে রেফারেন্ডামের মাধ্যমে ব্রেক্সজিটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিলো।কিন্তু গনতন্ত্রের অন্ধকার দিক সম্পর্কে ১৯৩০ সালে রবার্ট ব্রিফল্টের রচিত রেশনাল ইভল্যুশন থেকে উদ্ধৃতি ব্রেক্সজিট পরিস্থিতির কিছুটা হলেও বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করবে, “গনতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার হচ্ছে সবচাইতে খারাপ পদ্ধতির সরকার।এই সরকার পদ্ধতি সবচাইতে অদক্ষ, ন্যুজ, সবচাইতে অবাস্তব।এই তন্ত্র অজ্ঞানতাপূর্ণ, মূর্খের বিজয় নিশ্চিত করে।এই তন্ত্র অজ্ঞ লোকের বা জননেতৃত্বের প্রশংসালাভের ফন্দি মাত্র।”
কিন্তু রবার্ট পাশাপাশি এও বলেছেন, “গনতন্ত্রই এখন পর্যন্ত সমাজকে নিয়মানুবর্তিতায় আনায়নে সবচাইতে গ্রহনযোগ্য সামাজিক তন্ত্র।কারন, গনতন্ত্র একমাত্র তন্ত্র যা’ ন্যায় বিচারের সাথে সামন্জস্যপূর্ণ।” রবার্টের গনতন্ত্রের তীব্র সমালোচনার পরও সর্বশেষ করা মন্তব্য এখনও পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত সভ্য সমাজে সবচাইতে গ্রহনযোগ্য তন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
রেফারেন্ডাম নিয়ে বিতর্ক অনেক পুরনো।রেফারেন্ডাম গনতন্ত্রের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ সে আলোচনা ব্রেক্সজিটোত্তর অধিকতর আলোচ্য বিষয়ে দাঁড়িয়েছে।বিষয়টির দিকে যারা নজর রাখছেন তাদের মধ্যে আইনজীবি ডেভিড অ্যালেন গ্রীন বলেন যখন বৃটেনের অধিকাংশ জনগন ব্রেক্সজিট চায়নি তখন রেফারেন্ডামের মাধ্যমে বরং ব্রেক্সজিট পক্ষ জয়লাভ করে। চেন্জিং ইউরোপ থিংক ট্যাংকের ইউকে ডাইরেক্টর আনন্দ মেনন বলেন দ্বিতীয় রেফারেন্ডাম চলোমান সমস্যার কোনো সমাধান দিবেনা।
মেননের মতে যে সিদ্ধান্ত রাজনীতিকদের সিদ্ধান্তহীনতায় বন্দী রয়েছে সেটাকে পূনরায় জনগনের বন্দীদশায় বন্দী করে সমাধান আসবেনা।
মেনন বিশ্বাস করেননা যে বৃটেনে গনতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।তাঁর মতে ব্রেক্সজিট একটি কঠিন কাজ। অনেকটা ওমলেট থেকে আস্ত ডিমটি ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করার মত।
মৌলিক সমস্যা হচ্ছে সরাসরি (রেফারেন্ডাম) গনতন্ত্র এবং প্রতিনিধিত্বমূলক (পার্লামেন্টারি গনতন্ত্র) গনতন্ত্র একটি সাংঘর্ষিক রূপ নিয়েছে।মূল সমস্যাটি বৃটেনের জাতীয় গনতন্ত্র বনাম আধিরাষ্ট্রিক (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন) গনতন্ত্রের সাংঘর্ষিক চেতনা।
মেননের মতে কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেটাই কেউ জানেনা।স্কটিশ এবং নর্দান আইরিশরা একভাবে চিন্তা করছে, ওয়েষ্টমিনিস্টার এমপিরা অন্যভাবে ভাবছে, ব্রাসেলস্, বুদাপেষ্ট, পেরিস, বার্লিন এবং রোম হয়তো আরেকভাবে ভাবছে।কে স্বাধীন? প্রকৃতপক্ষে কেউ নয়। সুপরান্যাশনাল ডেমোক্র্যাসীর এটি একটি অন্যতম সমস্যা।
মেননের মতে বৃটেনের আত্মনিয়ন্ত্রের ইচ্ছা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অংশ হিসাবে ইচ্ছা এই দু’এর মধ্যে ব্যবধানই হচ্ছে ব্রেক্সজিট ধারনার উৎস।
সুতরাং বৃটেনকে ব্রেক্সজিট এ্যাকসেপ্ট করতে হবে। কঅন্যথায় বছরান্তে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন উড়িয়ে দেয়া যায়না।সে পরিবর্তন অনেকটা অস্বস্তিকর হতে পারে।
মোঃ শফিকুল আলম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Facebook Comments

You may also like

ডিজিটাল গুজবের অবসান হোক

অপশক্তি সব সময় গুজব, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাকে আঁকড়ে