ডিজিটাল গুজবের অবসান হোক

ডিজিটাল গুজবের অবসান হোক

325
0

অপশক্তি সব সময় গুজব, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে। তাদের কোনো নৈতিকতা নেই, মানবিকতা নেই। তারা সৃষ্টিকে নয়; ধ্বংসকে গ্রহণ করে। সত্যকে মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার মতো মূল্যবোধ বা মানসিক শক্তি তাদের নেই। ইতিপূর্বে রামু, নাসিরনগর ও দেশের অন্যান্য স্থানে ডিজিটাল গুজব প্রচার করে রাষ্ট্র ও জনজীবনে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়। কোটাবিরোধী আন্দোলনে একজন ছাত্রকে পুলিশ হত্যা করেছে বলে ডিজিটাল গুজব প্রচার করে ভয়াবহ নাশকতা করা হয়

‘ডিজিটাল’ শব্দটির সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার-২০০৮-এ দেওয়া প্রতিশ্রুতি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ এখন আর শব্দ নয়, বাক্য নয়; বাস্তবেই বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমাদের এই অনন্য গৌরবের অধিকারী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। আজ বাংলাদেশের ৯ কোটির বেশি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে, ১৫ কোটির বেশি মোবাইল সিম ব্যবহূত হচ্ছে এবং প্রায় ৫ কোটি লোক ফেসবুক ব্যবহার করছে।

প্রযুক্তির ভালো দিক মানবিক পৃথিবী, মানবিক রাষ্ট্র এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে মানবিকতার চর্চা করতে শেখায়। কিন্তু এর কুফল বা খারাপ দিকগুলো ধ্বংস ও বিপর্যয় ডেকে আনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা, বিস্ময়কর উন্নয়নে অনেকের গাত্রদাহ হচ্ছে। যারা দেশকে দুর্নীতিতে পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেছে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং যারা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে চায়নি; সেই অপশক্তি বিএনপি-জামায়াত জনজীবনে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে সক্রিয় রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার ইত্যাদি ব্যবহার করে। সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। তবে গুজব বা অপপ্রচার কোনোভাবেই কাম্য নয়। সম্প্রতি কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে পুঁজি করে ফেসবুকে যেভাবে ডিজিটাল গুজব প্রচার করা হয়েছে, সেই বিষয়টি নিয়েই আমার আজকের লেখনী।

গত ২৯ জুলাই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দু’জন মেধাবী শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যু এবং ১২ জন ছাত্রছাত্রী আহত হলে প্রধানমন্ত্রী হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা সড়ক নিরাপত্তার জন্য যেসব দাবি-দাওয়া পেশ করেছিল; গভীর মমত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেসব দাবির সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে, গুরুত্বের সঙ্গে তা বিবেচনায় নিয়ে পূরণের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজে যান। ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে ৫টি বাস প্রদান করেন। কলেজের সামনে জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তা পারাপারের জন্য আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন। নিহত উভয়ের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান ও আহত ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ঘাতক বাস দুটির চালক, হেলপার ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা ও তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীকালে যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ পাস করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ছাত্রছাত্রীদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া সমর্থন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা ঘরে ফিরে যায়। অথচ কুচক্রী মহল এই নিষ্পাপ ছাত্রছাত্রীদের কোমল অনুভূতিকে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। এদের অনেকেই রাতারাতি স্কুল ড্রেস বানিয়ে, পিঠে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে ছাত্র সেজে রাস্তায় নেমে অরাজকতা ও নাশকতা করে। উস্কানিদাতাদের মধ্যে বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার ফোনালাপটি এ রকম। তিনি একজন তরুণ ব্যারিস্টারকে বলছেন, তোমাকে তো কেউ চেনে না। তুমি ছাত্র সেজে আরও লোকজন নিয়ে ঢাকায় গিয়ে নেমে পড়। এই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাষ্ট্রীয় ও জনজীবনে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ফেসবুকে প্রতিনিয়ত ছবি বা ফটোশপসহ যেসব ডিজিটাল গুজব প্রচার করা হয়েছে, আমি এখানে তার কয়েকটি উল্লেখ করছি-

ডিজিটাল গুজব-১ :৩১ জুলাই, ২০১৮ ; গুজব :আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমনে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। সঠিক তথ্য :ছবিটি উত্তরা থেকে তোলা। সেনাবাহিনীর এই যানগুলো রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছিল। উত্তরায় বিকেলের দিকে ট্রাফিক জ্যামে পড়ে।
লিংক :http://goo.gl/2JNg5y

ডিজিটাল গুজব-২ :৪ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে, চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ অফিসে মেয়েদের নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিনেত্রী নওশাবা ফেসবুক লাইভে গুজব ছড়ান। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস পরিদর্শন করে হত্যা-ধর্ষণের খবর গুজব বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয় (http://bit.ly/2NDZ30X)

অভিনেত্রী নওশাবার মতো একই রকম গুজব অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ফেসবুকে প্রচার করেন। সঠিক তথ্য :গ্রেফতারকৃত অভিনেত্রী নওশাবা পরে গুজব ছড়ানোর কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি ব্যবহূত হয়েছেন। এমন গুজব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর ও রাস্তায় অরাজকতা ও নাশকতা করা হয়। এই নাশকতায় চিরতরে একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাপ্পীর। লিংক :http://bit.ly/2NfjX7A

ডিজিটাল গুজব-৩ :৪ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ৪ আগস্ট তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লাইভে গুজব ছড়ান- ক্ষমতাসীনরা ছাত্রদের নির্যাতন করছে। তিনি আলজাজিরা টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকারে অনুরূপ গুজব ছড়ান। সঠিক তথ্য : শহিদুল আলমের বক্তব্য বানোয়াট, উস্কানি ও রাষ্ট্রদ্রোহমূলক।

ডিজিটাল গুজব-৪ :৪ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :ধানমণ্ডির জিগাতলায় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় কলেজ ছাত্রী নিহত। সঠিক তথ্য :ছবিটি আগস্টের ৪ তারিখ গাজীপুরের বড়বাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মেডিকেল ছাত্রী ফাতেমা আক্তার মীমের। আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় তিনি নিহত হন বলে গুজব ছড়ানো হয়েছিল। লিংক :http://goo.gl/NfUaVr

ডিজিটাল গুজব-৫ :৪ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :আন্দোলনরত শিক্ষার্থীকে আওয়ামী লীগ অফিসে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। সঠিক তথ্য :প্রকৃতপক্ষে ছবিটি ৪ জানুয়ারি ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিশুওয়ারে পাওয়া এক নারীর লাশের ছবি। লিংক :http://archive.is/Ajf1s

ডিজিটাল গুজব-৬ :৫ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :ধানমণ্ডিতে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় নিহতদের ছবি। সঠিক তথ্য :ছবিটি জুন ১৯ তারিখে সৈয়দপুরের এক সড়ক দুর্ঘটনার। পিকঅপ ভ্যান ও বাসের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়। লিংক :http://goo.gl/B4hLq3

ডিজিটাল গুজব-৭ :৫ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :আওয়ামী লীগ অফিসে ধর্ষিত এক ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে প্রচার করা হয়। সঠিক তথ্য :ছবিটি ছিল ৩০ জুলাইয়ে রমিজ উদ্দিন কলেজের সামনে দুর্ঘটনায় আহত এক ছাত্রীর। সূত্র :ওই ছাত্রীর বোন। লিংক http://bit.ly/2QxFYfD

ডিজিটাল গুজব-৮ :৫ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :আওয়ামী লীগ অফিসে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় দুই ছাত্রীকে, লেক থেকে উদ্ধার হওয়া দুই ছাত্রীর লাশ। সঠিক তথ্য :ছবিটি ৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে ময়মনসিংহের মাস্টারবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় লেগুনা ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে তিন ছাত্রীসহ দুই জন নিহত হওয়ার ঘটনার। লিংক :http://archive.is/5PESm

ডিজিটাল গুজব-৯ :৫ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :আওয়ামী লীগ অফিসে ধর্ষণ করে হত্যা করে ফেলে দেওয়া ছাত্রীর লাশ। সঠিক তথ্য :ছবিটি ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিলের। চাঁদপুরের মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীর পাশে এক স্কুলছাত্রীর অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যায়। লিংক :http://bit.ly/2Mx87Ar

ডিজিটাল গুজব-১০ :৫ আগস্ট, ২০১৮ ; গুজব :আওয়ামী লীগ অফিসে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীরা। সঠিক তথ্য :ছবিটি ২০১৮ সালের ২৭ মার্চের। মেহেরপুরের হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ ছাত্রী গণ-হিস্টিরিয়ায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। লিংক : http://bit.ly/2xioECz

এ ছাড়াও মাথা, হাতে ভুয়া ব্যান্ডেজ ব্যবহার করে রাস্তায় আন্দোলনে নেমে ছাত্রলীগের হামলার শিকার বলে গুজব প্রচারকারীর নাটকের লিংক : http://bit.ly/2Nca76i

সেফাতউল্লাহ নামে জনৈক ব্যক্তি প্রায়ই ফেসবুক ও ইউটিউবে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করতে আপত্তিকর, অশ্নীল, নোংরা ও উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলে। এসব ডিজিটাল অপরাধের অবসান প্রয়োজন। উল্লেখ্য, প্রতিটি গুজবে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ। অপশক্তি সব সময় গুজব, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাকে আঁকড়ে ধরে। তাদের কোনো নৈতিকতা নেই, মানবিকতা নেই। তারা সৃষ্টিকে নয়; ধ্বংসকে গ্রহণ করে। সত্যকে মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার মতো মূল্যবোধ বা মানসিক শক্তি তাদের নেই। ইতিপূর্বে রামু, নাসিরনগর ও দেশের অন্যান্য স্থানে ডিজিটাল গুজব প্রচার করে রাষ্ট্র ও জনজীবনে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়। কোটাবিরোধী আন্দোলনে একজন ছাত্রকে পুলিশ হত্যা করেছে বলে ডিজিটাল গুজব প্রচার করে ভয়াবহ নাশকতা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে নির্মম ও ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনাটি এই তো কিছুদিন আগের। পরে ওই কথিত নিহত ছাত্র নুরু নিজে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়- আমি মরি নাই।

কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে- মাইকে ও ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে বগুড়া ও সারাদেশে তাণ্ডব ঘটানো হয়। সে কথা মনে হলে এখনও গা শিউরে ওঠে। মক্কা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের বিষয়কে সাঈদীর মুক্তির আন্দোলন বলে গুজব প্রচার করা হয়। ‘৭৪ সালে বাসন্তীকে জাল পরিচয়ে ছবি তুলে পত্রিকায় ছাপিয়ে ঘৃণ্য নাটক করা হয়েছিল। অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে, সে সময় একটি শাড়ির চেয়ে জালের মূল্য অনেক বেশি ছিল। নৌকায় ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি শোনা যাবে; শান্তিচুক্তি হলে ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে- এসব গুজব বা অপ্রপ্রচার বিএনপি নামক দলটি অনবরত করেছে।

আমাদের স্বপ্ন, রূপকল্প-২০২১, রূপকল্প-২০৪১ আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে চাই। ডিজিটাল গুজব, অপপ্রচার আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করে। রাষ্ট্র ও জনজীবনের বিরুদ্ধে অরাজকতা, নাশকতা কাম্য নয়। এসব প্রতিরোধ করা আবশ্যক। প্রয়োজন ডিজিটাল নিরাপত্তা। ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব। তথ্যপ্রযুক্তির অপপ্রয়োগ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে যাতে কলুষিত করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে। আইন মানুষের কল্যাণের জন্য। সময়ের পরিক্রমায় যেমন নতুন আইন প্রণীত হয়, পুরনো আইন যুগোপযোগী করা হয়; তেমনি অপরাধীরাও নিত্যনতুন অপরাধ সংঘটন করে। আমাদের প্রত্যাশা, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধানে এ আইনটির সঠিক প্রয়োগ হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আসুন গুজব, অপপ্রচারকে ‘না’ বলি; সত্য ও সুন্দরকে গ্রহণ করি। পরিশেষে বলব-

‘যদি তুমি গুজবে কান দাও, তবে তুমি শেষ

যদি তুমি সত্যের সন্ধান কর, তবে তুমি বাংলাদেশ।’

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, আইনজীবী ও সংসদ সদস্য

 

Facebook Comments

You may also like

ঋনযুদ্ধে পর্যুদস্ত এক বঙ্গবীর

ফজলুল বারী:নির্বাচনের মনোনয়নের প্রাথমিক বাছাই পর্বে বিশেষ কিছু