অস্ট্রেলিয়ার রংধনুর কন্যা

অস্ট্রেলিয়ার রংধনুর কন্যা

1034
0

কাউসার খান:এই তো মাত্রই রঙ চিনতে শুরু করা এমন শিশুর রঙ তুলির আঁচড় যদি শিল্পকর্ম হয় তাহলে কেমন লাগবে। বিস্ময়ের ঘোর হয়তোবা কাটবেই না। হয়তোবা বিশ্বাসও হবে না এক ছোট্ট শিশুর রংপেন্সিলের নাড়াচাড়া আবার  শিল্পকর্ম হয় কিভাবে ! এমন যখন প্রশ্ন আর বিস্ময়ের ঘোর  খাবে ঘোরপাক তখনই সামনে হাজির অস্ট্রেলিয়ার ‘রংধনুর কন্যা’ অ্যালিটা। যার ২২ মাস বয়সী হাতের ছোঁয়া যাওয়া রঙের খেলাগুলো বড় বড় পেশাদার চিত্রশিল্পীদের চিত্রকর্মের পাশে স্থান পেয়েছে। জায়গা করে নিয়েছে গ্যালারিতে আগত দর্শকদের মনে। শুধু স্থান আর জায়গাই নয় সেই শিশুটির চিত্রকর্মগুলোও বিক্রি হয়েছে উঁচুমূল্যে।সবমিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দু’লক্ষ টাকার কছাকাছি। সেই শুরু তারপর আর থেমে নেই তার কাজ। জন্মের পর হাঁটা শিখতে শিখতেই রঙ নিয়ে যার এত মাতামাতি স্থানীয়রা তাকে আদুর করে ডাকে রংধনুর কন্যা। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পেশাদার শিল্পীর খেতাবটাও তার ঝুলিতে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী রংধনু কন্যাখ্যাত এই ছোট্ট চিত্রশিল্পীর পুরোনাম অ্যালিটা আন্দ্রে। তবে রঙের দুনিয়ায় যেমন হামাগুড়ি থেকে দৌঁড় দিতে শিখেছে অ্যালিটা বাস্তবেও তাই। অ্যালিটার জন্ম ২০০৭ সালে। মাত্র ৯ মাস বয়স থেকেই রঙ নিয়ে খেলা করার প্রতি অ্যালিটার আগ্রহের বিষয়টি খেয়াল করেন অ্যালিটার অস্ট্রেলিয়ান বাবা মাইকেল আন্দ্রে এবং রাশিয়ান মা নিক্কা কালানিকোভায়। মেয়েকে সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদ বলে মনে করেন তাঁরা।

অ্যালিটার বয়স যখন ২ বছর, তখনই তার রঙের কারসাজি নিয়ে একক চিত্রকর্ম মেলবোর্নের বিখ্যাত বিএসজি গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়। সেখানেই তার আঁকা রঙিন হৃদয়স্পর্শী ১০টি ছবির প্রতিটি ৩০০ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়। এরপর অ্যালিটা আর কখনো থামে নি। তাঁর বিশাল কক্ষের মেঝেতেই ক্যানভাস রেখে শুরু করে একের পর এক রঙ ফেলা আর তা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেওয়া। তাতে আবার যা ইচ্ছে তাই জুড়ে দেয় সে। কখনও নিজের খেলনাকেও লাগিয়ে দেয় চিত্রকর্মে। অ্যালিটার রঙিন চিত্র, সাউন্ড পেইন্টিং, ড্রয়িং, ভাস্কর্য, স্থাপনা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় চিত্রকর্ম হলো বেহালার ওপর রঙ দিয়ে রঙিন নকশা করা। এখন পর্যন্ত অ্যামেরিকা, রাশিয়া, হংকং, চীন ও অস্ট্রেলিয়ায় অ্যালিটার ডজন খানেক চিত্র শিল্পের প্রদর্শনি আয়োজিত হয়েছে। শুরুর দিকে তার এই চিত্রকর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ নিয়ে অনেক নেতিবাচক সংবাদ আসতো। সেসময় এক পত্রিকায় শিরোনাম আসে, শিশুদের আঁকিবুঁকি যদি চিত্রকর্ম হয়, তাহলে সত্যিকার শিল্পকর্ম কি। সেই প্রতিবেদনটি বলা হয়, যারা শিশুদের রঙের খেলাকে চিত্রকর্ম বলেন, তাঁরা কি আসলেই চিত্রকর্ম বোঝেন কি না !  এর জবাবে মেলবোর্ন গ্যালারির পরিচালক মার্ক জেমিয়েসন বলেন, ‘শিল্প এমন একটা বিষয়, যা স্বতন্ত্র। এখানে আপনি তাই পাবেন যা আপনি দেখবেন। আর অ্যালিটার চিত্রকর্ম মোটেও সাধারণ কোনো কিছু নয়।’ ছোট্ট অ্যালিটা তার কাজ নিয়ে বলে, ‘জীবনই একটা ক্যানভাস, আমি জীবন আঁকি, আমি গোটা ব্রহ্মাণ্ডও আঁকি।’ মেয়ের কাজে শুরু থেকেই উৎসাহ দিয়ে আসছেন অ্যালিটার বাবা ও  মা।

Facebook Comments

You may also like

প্রবাসীর বাংলাদেশ ২০১৯  – পর্ব ১

জুলাই ২০০৯ , বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমাই অস্ট্রেলিয়া,