ব্যাম্বি

ব্যাম্বি

0

ছোট্ট হরিণ শাবক ব্যাম্বি, ডিজনী’র কার্টুনে কি অসম্ভব মায়াময় একটি চরিত্র সে খবর অনেকেরই জানা। সত্যি তারা আদুরে। কিন্তু এ সভ্য জগতের প্রগতি ওদেরও জীবন কেড়ে নেয়, সড়কের পাশে পড়ে থাকা হরিণ বা হরিণ শাবকদের অন্তিম যাত্রার কথা বলছি। দারুণ রকমের কষ্টকর এক একটা মৃত্যু ওরা পায়।

অন্যান্য অন্গরাজ্যের খবর জানিনা, আমার চলাচল দক্ষিণের দুটো স্টেটেই বেশী আর সেখানে দেখা গাড়ি চাপা পড়ে হরিণের মৃত্যুর গল্প লিখতে বসেছি।

একটু গ্রাম্য পথে চলতে গেলে চোখে পড়ে পথের ধারে বা মাঝ রাস্তায় চিরনিদ্রায় শায়িত হরিণ। এ দৃশ্য এখানকার বহুল পরিচিত দৃশ্য, আমি প্রতিদিনই দেখতে পাই কোন না কোন প্রাণী মরে পড়ে আছে রাস্তার ওপর। সেদিন ভোরে গাঁয়ের পথ দিয়ে চলতে চলতে রাস্তার ডান ধারে পড়ে থাকা হরিণ শাবককে দেখে মনের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো,

“ আহারে ব্যাম্বি!”

গাড়ি ধীরে চালিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলাম। মনে নানান অকারণ প্রশ্ন জাগছিলো। ও কি একাই এসেছিলো? নাকি ওর মা বা বাবা কাছাকাছি কোথাও ছিলো?  ওকে ওখানে পড়ে থাকতে দেখেও হয়তো ওদের কিছু করবার ছিলোনা, ওর দেহ ঐ পথের ধারে ফেলে রেখেই তাদের চলে যেতে হয়েছিলো।

মন বলছিলো এই অভাগা শিশুটির জ্বলজ্বলে চোখ হয়তো আমি কোন এক সন্ধ্যায় দেখেছি। হয়তো বা এ নয়, অন্য কোনো মৃগনয়নের ঔজ্বল্য দেখেছি।  অন্ধকার নামার পর আমার গন্তব্যে ফেরার পথে প্রায় দেখি ওরা রাস্তার ধারে ঘাস বা কচি পাতা খাচ্ছে, কেউ বা  মুখ তুলে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলা গাড়ি দেখছে। গাড়ির হেড লাইটের আলোক রশ্মি খানিক দূর হতে এসে ম্লান হলেও ওদের কাছ ঘেঁসে ছুটে চলে। সে রশ্মি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকা হরিণদের চোখ ছুঁতে না ছুঁতেই তাদের চোখের মনি চকচকিয়ে ওঠে। আলো আঁধারে উজ্জ্বল চোখ গুলোই পথিকের চোখে পড়ে।

সন্ধ্যা নামার পর পরই ওরা অরন্যের গহীনের আবাস ছেড়ে বড় বড় সড়কের ধারে চলে আসে। কচি ঘাস বা গুল্ম খাবার জন্যেই হয়তো তাদের এই বিচরণ। ওরা ভীষণ সাবধানি, অল্প শব্দেই তারা হুশিয়াঁর হয়ে যায়।

 তবুও কেমন করে গাড়িচাপা পড়ে তারা? রাস্তার ধারে ঘাস খেতে খেতে রাস্তা পার হয়ে ওপারে যাবার বেলাতেই বিপত্তিগুলো ঘটে। ওরা যে সভ্য মানুষের মত ট্র্যাফিক নিয়ম জানেনা।  সবক্ষেত্রে চালককেও দোষারোপ করা যায়না , ভীষণ চকিতে তারা রাস্তার ওপর এসে পড়ে। মাঝে মাঝে ব্লাইন্ড স্পট থেকে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ সময়ে তারা গাড়ির সামনে হাজির হয়, চালক তখন হরিণ বাঁচাবার ব্যর্থ চেষ্টাতে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে হয় পাশের খাঁদে চলে যায় নয় উল্টো দিকের লেনে চলে যায়। নিশ্চিত দূর্ঘটনাএড়াতে  অনিচ্ছাতেই  হরিণদেরই আঘাত করতে হয় চালককে।

কেউ আর পেছন ফিরে আহত বা নিহত হরিণ দেখে না।

তারপর শুরু হয় শকুন শকুনীদের ভোজ উৎসব। ঝাঁকে ঝাঁকে শকুন আসে মৃত প্রাণীর দেহ ভক্ষণে।চালকেরা সেই শকুন- শকুনীদের উৎসব দেখতে পায় , দূর হতে।

যুথিকা গোলদার
জর্জিয়া , ইউ এস

Facebook Comments

You may also like

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রিয়া

ফজলুল বারী:প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রধর্ম মামলা