রোহিঙ্গা এবং মানব পাচার রোধে অস্ট্রেলিয়া ৮০ মিলিয়ন ডলার দিবে

রোহিঙ্গা এবং মানব পাচার রোধে অস্ট্রেলিয়া ৮০ মিলিয়ন ডলার দিবে

0

রোহিঙ্গা এবং মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোকে অস্ট্রেলিয়া ৮০ মিলিয়ন  ডলার(অস্ট্রেলিয়ান) সাহায্য দিবে বলে গত বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্শিয়া পাইন ব্যাংককে আসিয়ান (ASEAN) সম্মেলনে আশ্বাস দেয়। তিনি আরো বলেন মায়ানমার রাখাইন স্টেটে তৈরী সমস্যার কারণে বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা রিফিউজি এসেছে, তা সমাধানের জন্য বাংলাদেশের পাশে থাকবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার।এছাড়াও রোহিঙ্গা রিফিউজি প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ,আসিয়ান দেশগুলোকে নিয়ে মায়ানমার সাথে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান সরকার অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

অভুক্ত, ভিটা ছাড়া মানুষ ও কাজহীন মানুষকে খুব সহজেই কেনা যায়।জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো মনে করে ,নামমাত্র বেতনে মানব পাচার অথবা আধুনিক দাসপ্রথার জন্য মায়ানমার থেকে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে তারাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে স্পর্শকাতর মানুষ। তাদের মতে, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১০ লক্ষ লোক অবস্থান করছে। এই ক্যাম্পের কোন প্রাচীর কিংবা কাঁটা তারের বেষ্টনীও নাই।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি এবং ভাগ্যন্বেষণে দালালের প্ররোচনায় পড়ে বিদেশ যেতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিচ্ছে এই সমস্ত মানুষেরা । অধিক সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষরাই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেঁছে নিচ্ছে। এমনকি মহিলা ও শিশুরাও এই ঝুঁকি নিচ্ছে। এতে অপহরণ ও অপমৃত্যুর শিকার হচ্ছে তারা । যার ফলে কাজের সন্ধানে কিংবা সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় মানব পাচারকারী চক্রের কাছে সহজেই এরা ধরা দেয় এবং জীবন বাজী রেখে নৌকায় করে সাগর পারি দিয়ে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়া যায় প্রথমধাপে এবং পরবর্তীতে চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া অথবা নিউজিল্যান্ড অথবা নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে যেতে।
আইনের নানা বিধিবিধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি সত্ত্বেও মানবতাবিরোধী এই অপরাধী চক্রকে কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত টহল ও নজরদারি না থাকায় বরাবরই সক্রিয় থাকছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের দালাল চক্র।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের গ্লোবাল সার্ভে ইনডেক্সে দেখা যায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রিফুজি ,আধুনিক দাসপ্রথা অথবা মানব পাচার চক্রের কবলে পড়া লোকের সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি ৫০ লক্ষ লোক।

১০ বছর মেয়াদে এই বরাদ্দের অর্থ বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্রেনিং দেয়ার পিছনেই মূলতঃ খরচ করা হবে ,যা দক্ষিণ এশিয়ান মানবতাবিরোধী এই অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্ককে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করবে।

সূত্রঃ সেভেন নিউজ

Facebook Comments

You may also like

শেখ হাসিনাকে যে কারনে তারা হত্যা করতে চেয়েছে ২১ আগষ্টে

ফজলুল বারী:দুই হাজার চার সালের ২১ আগষ্টের জনসভার