ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্তটি কার?

ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্তটি কার?

0

ফজলুল বারী: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে নেয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার কারনে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দল পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক সফরে যায়না। তাদের খেলার আয়োজন করা হয় দুবাই-শারজার মমত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এরমাঝে পাকিস্তান বলে দিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে খেলার আয়োজন তারা দুবাই-শারজাহে করবেনা। এরপর থেকে বাংলাদেশ দলকে পাকিস্তান নিতে তোড়জোর শুরু করে দেয় পাকিস্তানের প্রতি নতজানু বিসিবির বর্তমান নেতৃ্ত্ব। এরমাঝে নারী ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের জীবনের কোন মূল্য যেহেতু এই বিসিবি নেতৃত্বের নেই সে কারনে নারী ক্রিকেটদলকে তারা গিনিপিগ বানানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। নারী ক্রিকেটদলও নীরবে সব সয়ে গেছে। দেশের নারী সংগঠনগুলোও এ নিয়ে দেখিয়েছে আশ্চর্য নীরবতা।

জাতীয় দলের পাকিস্তান সফর যেহেতু এর আগে দেশের মানুষের আপত্তির মুখে এর আগে একাধিকবার বাতিল হয়েছে তাই এবার শুরু থেকে বিসিবির পক্ষে এ ব্যাপারে নানান চালাকির আশ্রয় নেয়া হয়। প্রথম বলা হয় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। সরকার মানে সবাই বোঝেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি নিজেও ক্রিকেট অন্তঃপ্রাণ। এরপর বলা হয় খেলোয়াড় কে পাকিস্তান যাবে না যাবে এ নিয়ে জোরাজুরি করবেনা বিসিবি। এরমানে পাকিস্তান যাবার ব্যাপারে বিসিবি বস পাপন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন! আনুষ্ঠানিক ঘোষনা না হলেও টিভি মিডিয়াগুলো রিপোর্ট শুরু করে দিয়েছে জানুয়ারিতে বাংলাদেশ দল পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে। বিসিবির পক্ষ হাবিবুল বাশার সুমন এরমাঝে চট্টগ্রামে লম্বা বৈঠক করেছেন টেস্ট ক্যাপ্টেন মোমিনুল হকের সঙ্গে। এরপর মিডিয়াকে বলা হয় ভারত সফরের মতো পাকিস্তান সফরে যাতে দলের একই হাল না হয় সে জন্যে তাদের আগাম বৈঠক। এরজন্যে প্রশ্নটি চলে এসেছে সামনে। বাংলাদেশ দলকে এভাবে ধরেবেঁধে পাকিস্তান নিয়ে যাবার সিদ্ধান্তটি কার? বিসিবি বস কী এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়েছেন অথবা পেয়েছেন?

বাংলাদেশের মানুষ এখন ক্রিকেট পাগল। জাতীয় দলটাকে সবাই প্রানের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন। এরজন্য দেশের গর্ব ক্রিকেট দলের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে। বিশেষ করে সর্বশেষ ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ হত্যাকান্ডের পর এই নিরাপত্তার বিষয়টি স্পর্শকাতর অবস্থায় আছে। পাকিস্তান একটি মৌলবাদী জঙ্গি রাষ্ট্র। শ্রীলংকা দলের সফরকালীন জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে বহুবছর ধরে দেশটি ক্রিকেটসহ মূলধারার খেলাধূলা বিচ্ছিন্ন। যেহেতু বিশ্বের প্রধান সারির কোন দল পাকিস্তানে যায়না, পাকিস্তান তাই তাদের সঙ্গে ফিরতি খেলার আয়োজন করে দুবাই বা শারজাহে। এ অবস্থায় শ্রীলংকান ক্রিকেট বোর্ডকে নানান অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে তারা তাদের দলকে সেখানে খেলতে নিয়ে গেছে।

শ্রীলংকান বোর্ডের আর্থিক অবস্থার কারনে দেশটির খেলোয়াড়রা যেখানে সুযোগ পায় খেলতে যায়। নিরাপত্তার ধার ধারেনা। বাংলাদেশের ক্রিকেট বসকে পাকিস্তান কিভাবে বশ করেছে সে নিয়ে বেশ কানাঘুষা আছে ক্রীড়াঙ্গনে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভি রহমানের ছেলে হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ভালোবাসায় দীর্ঘদিন ধরে বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু নানাকারনে দেশের ক্রিকেট যে জিম্মি তার স্বেচ্ছাচারিতার কাছে তাতো ক্রিকেটারদের সর্বশেষ বিদ্রোহ-আন্দোলনে আরও স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ দলকে পাকিস্তান নিয়ে যেতে কেনো নানান গোপনীয়তা সহ পাপন এগোচ্ছেন এর সাফ উত্তর তাকে দিতে হবে।

ক্যাসিনো কেলেংকারী-সাকিবের শাস্তিতে এমনিতে দেশের ক্রীড়াঙ্গন, বিশেষত ক্রিকেটে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রিকেটে উল্লেখ করার মতো সাফল্যও নেই। বিসিবির আয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট স্থবিরতায় দাঁড়িয়ে। পাইপ লাইনে নতুন ক্রিকেটার আসছেনা। এক সাকিব-তামিমের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চেহারা ধরা পড়েছে ভারত সফরে। খেলোয়াড় বিদ্রোহ ধামাচাপা দেয়া গেলেও ক্রিকেট এর পুরনো জায়গায় দাঁড়িয়ে। এরমাঝে ক্যাসিনো কেলেংকারির পর জানা গেলো নৈতিকতার প্রশ্নের মুখে দেশের ক্রিকেট নেতৃত্ব। ক্যাসিনো কেলেংকারীতে যে যেখানে ধরা পড়েছে তাদের সেই সব প্রতিষ্ঠান-সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু ব্যতিক্রম বিসিবির লোকমান হোসেন ভূঁইয়া। কারন ক্যাসিনো লোকমান বিসিবি বস নাজমুল হাসান পাপনের নিয়মিত ভোটার! দেশের ক্রিকেটের বারোটা না তেরোটা বাজলো না বাজলো তাতে কী! বিসিবির কর্তৃ্ত্ব ধরে রাখতে পাপনের যে দরকার এমন লোকমান জাতীয় দুশ্চরিত্র সদস্য।

খোদ বিসিবি বসের বিদেশে ক্যাসিনো খেলার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে তা দেখে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত হয়েছেন এমন একটি নিউজ মিডিয়ায় এসেছিল। কিন্তু পাপনের স্বেচ্ছাচার বহাল। এমন একজন অনৈতিক নেতার নেতৃত্বে লেজেগোবরে অবস্থা জাতীয় ক্রিকেট দলের। পাকিস্তান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিসিবি বসের লুকোচুরি এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত। ভীতির বিষয়টি হচ্ছে শ্রীলংকা বা অন্য যে কোন দলের চেয়ে পাকিস্তানে বাংলাদেশ দল বেশি নিরাপত্তাহীন। কারন যে সব জঙ্গি এসব হামলা চালায় এরা পাকিস্তান-বাংলাদেশ ভাই ভাই। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা যে ভাবে সবল-সফল পাকিস্তানিরা সে রকম নয়। এসব জঙ্গিদের স্রষ্টা পাকিস্তানের গোয়েন্দারাই। ভয়টা সেখানেই। আমরাতো বলতে পারতাম যদি তোমরা (পাকুরা) ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে তোমার দেশে যেতে রাজি করাতে পারো তাহলে আমরা চিন্তা করবো তোমার দেশে যাবো কিনা। কেনো কিভাবে কিসের ভিত্তিতে পাকিস্তান সফরে যাবার সিদ্ধান্ত হয়েছে এ ব্যাপারে দেশের মানুষের সামনে সাফ সাফ বক্তব্য দিতে হবে। আমাদের প্রানের টুকরো জাতীয় দলের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে কোন ছলছাতুরি আমরা মানবোনা। প্রতিবাদ করো বাংলাদেশ। জাগো প্রিয় প্রজন্ম।

ফজলুল বারী
fazlulbari2014@gmail.com

Facebook Comments

You may also like

রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ক্ষমতা মেশিন!

ফজলুল বারী: বাংলাদেশে আমাদের গৌরবের আহ্লাদের এক অবিরাম