আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বেহায়াও হয়

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বেহায়াও হয়

0

ফজলুল বারী:দেশের আইনসভার নিম্নকক্ষ অভিশংসিত করেছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। কিন্তু এরপরও তিনি  প্রেসিডেন্ট থাকবেন। কারন আইনসভায় উচ্চকক্ষ সিনেটে তাকে রক্ষার মতো তার ভোট আছে। এ কথাটা আবার হোয়াইট হাউসকে দিয়ে বিবৃতি দেইয়ে সবাইকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে! এ না হলে কি তার নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়! এ নিয়ে তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হবার পরও টিকে গেছেন একই কায়দায়। এই হলো আমেরিকা। এরাই দুনিয়ার মুরব্বি। সবাইকে নিত্য নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দেয়। কিন্তু নিজের বেলায় তালগাছটা আমার। সাদা বাংলায় যা বলা যায় আমেরিকার প্রেসিডেন্টও বেহায়া হয়! অথবা আমেরিকানরা এমন লোককেও ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট বানায়!

এই একজন ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই নানা কারনে আমেরিকা এবং আমেরিকান গণতন্ত্র সম্পর্কে সম্পর্কে বিশ্ববাসীর প্রচলিত অনেক ধারনাকে এলোমেলো করে দিয়েছেন। তাকে কখনও মনে হবে ভাড়, কখনওবা ভালগার। কোন কিছুতেই তাকে নিয়ে কারও শ্রদ্ধা-ভক্তি আসবেনা। অথবা কারও শ্রদ্ধা-ভক্তিকে তিনি পরোয়াও করেননা। সঙ্গে তার একজন ফার্স্টলেডি আছেন। কিন্তু আগের পক্ষের মেয়ে-মেয়ের জামাই সরকারি নানান কাজকর্মে গুরুত্বপূ্র্ন! অন্য দেশের বেলায় হলে এ নিয়ে হৈহৈ পড়ে যেতো। প্রশ্ন তুলতেন সে দেশে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূত। কিন্তু আমেরিকা বলে এ নিয়ে কথা কম। প্রায় এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এই ফার্স্টলেডি দ্বন্দ্বের খবর বেরোয়। প্রেসিডেন্ট শোয়ার বিছানায় বসে রাতে বার্গার খেতে পছন্দ করেন! এ নিয়েও দ্বন্দ্ব হয়  ফার্স্টলেডির সঙ্গে!

দেশের এবং বৈদের্শিক নানা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট টুইট করে নিজের মতামত জানান! আবার হাস্যরসের পাত্র হলে প্রেসিডেন্ট তার টুইট ডিলিটও করেন। মিডিয়ার সঙ্গে তার এক রকম মুখোমুখি সম্পর্ক। রাজনীতিকরা মিডিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। ট্রাম্প যেহেতু সে রকম কোন রাজনীতিক না, তাই সে রকম সম্পর্কের ধারও ধারেননা বা সে রকম ভাবেননা। এ নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে তার প্রায় বাহাস হয়। বনিবনায় না মিললে মিডিয়াকে দেশের শত্রুও বলতে ছাড়েননা। দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিধর দেশ আমেরিকাকে এমন একটি এলোপাতাড়ি অবস্থায় বিশ্ব এর আগে কখনও দেখেনি।

বারাক ওবামা যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন আমেরিকা দেশটাকে এর প্রেসিডেন্টকে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষজনের যেমন একান্ত নিজের নিজের মনে হতো। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বেলায় উল্টো। ইনি অবশ্য ঘোষনা দিয়েই বারাক ওবামাদের উল্টো। একরকম রাখঢাক ছাড়াই ডোনাল্ড ট্রাম্প উন্নাসিক বর্নবাদী একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট! বরাবরের চেয়ে বেশি মুসলিম বিদ্বেষীও। কোন রকম ভনিতা ছাড়াই সরাসরি ঘোষনা দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনা করে দিয়েছেন। ভেঙ্গে দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের নানান ভারসাম্যের হিসাবনিকাশ! ডোনাল্ড ট্রাম্প নানাভাবে বোঝান তার চিন্তাটাই সত্যিকারের আমেরিকা। তার চিন্তাটাই সেরা। জাতিসংঘের নানা সংস্থা থেকে তিনি আমেরিকার বরাদ্দ হয় কমিয়েছেন, নয়তো বন্ধ করেছেন। বিশ্বকে বাসযোগ্য রাখতে বরাবরের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের যে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল, এই প্রেসিডেন্ট সে সবের ধার ধারেননা। ইনি ধনকুবের ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে এসে প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন। আমেরিকার ব্যবসায়িক স্বার্থটা তাই তিনি ভালো বোঝেন মনে করেন।

২০২০ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনে দুটি অভিযোগ আনা হয়। এর একটি হচ্ছে অভিশংসন তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানো, সাক্ষ্য দিতে তার কর্মীদের বাধা দেয়া এবং তথ্যপ্রমান ধামাচাপা দেবার মাধ্যমে কংগ্রেসের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। অপর অভিযোগ হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে ফোন করে চাপ দেয়া। উন্নত বিশ্বের প্রচলিত ভদ্রতা হচ্ছে এমন অভিযোগ কারও বিরুদ্ধে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে তদন্তে সহযোগিতা করেন।  ডোনাল্ড ট্রাম্প নানাভাবে প্রতিদিন বোঝাবার চেষ্টা করেন তিনি অত সভ্যতা-ভব্যতার ধার ধারেননা। তিনিই সেরা। এমন একজন খামখেয়ালি স্বভাবের ব্যক্তির আমেরিকার নেতৃত্বে থাকায় বিশ্ব এখন নানান ঝুঁকির মধ্যে। কিন্তু মার্কিন নাগরিকরা তাকে দায়িত্ব থেকে সরাবেন তেমন আলামতও নেই। সে কারনে ২০২০ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফজলুল বারী
fazlulbari2014@gmail.com

Facebook Comments

You may also like

১৫ই ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কসটাউনের পল কিটিং পার্কে ভালোবাসার বাংলাদেশ মেলা !

আসছে ১৫ই ফেব্রুয়ারি শনিবার ব্যাঙ্কসটাউনের পল কিটিং পার্কে