করোনা পরিস্থিতির কারনে বাংলাদেশি ছাত্রদের কাজও বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ায় 

করোনা পরিস্থিতির কারনে বাংলাদেশি ছাত্রদের কাজও বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ায় 

0

ফজলুল বারী :করোনার কারনে কাজ বেড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিদেশি ছাত্রদের। ছুটির দিনগুলো ছাড়া সাধারন সময়ে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা এখানে সপ্তাহে কুড়ি ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারেননা। কারন এদের গবেষনা হচ্ছে একজন ছাত্র সপ্তাহে কুড়ি ঘন্টার বেশি কাজ করলে তারা পড়াশুনায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবেনা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে অনেক ছাত্রছাত্রী যার যার দেশে আটকা পড়াতে ছাত্রদের কোন কোন ক্ষেত্রের কাজের বাজারে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। উলওয়ার্থের মতো সুপার মার্কেটগুলোতে ছাত্র কর্মীরা তাই এখন আনলিমিটেড সময় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বলেছেন, সৃষ্ট পরিস্থিতির কারনে তারা এ ব্যাপারে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত কাজের সুযোগ পেয়ে এগুলোর ছাত্র কর্মীরাও বেজায় খুশি।  

উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ার বিদেশি ছাত্ররা সাধারনত ক্রিসমাসের লম্বা ছুটির সময়গুলোতে আনলিমিটেড সময় কাজ করার সুযোগ পান। প্রায় সব ছাত্রছাত্রী ওই সময়ে একাধিক কাজ করেন। ওই সময়ের কাজের আয়ের টাকায় তাদের সিংহভাগ টিউশন ফী দেন। সিডনির একটি বহুতল ভবনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী এক বাংলাদেশি ছাত্র জানালেন তার কাজ হলো ৫২ তলা ভবনের প্রতিতলার লিফটে ঘুরে ঘুরে লিফটের দরজা-হাতল, আশেপাশের  গ্লাস-দেয়াল এসব মুছে সাফসুতরো রাখা। বেশি কাজ করার সুযোগ পেয়ে এই বাংলাদেশি ছাত্রও বেজায় খুশি। কারন তাকে টিউশন ফী’র টাকা নিয়ে ভাবতে হবেনা। উল্লেখ্য অস্ট্রেলিয়ায় যত বাংলাদেশি ছাত্র কাজ করেন তাদের সিংহভাগ নিজেদের কাজের উপার্জনের টাকায়ই পড়েন। অনেকে নিয়মিত বাড়িতেও টাকা পাঠান। 

আবার কাজের বাজারের উল্টো চিত্রও আছে। বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ কমে আসায় এরমাঝে বন্ধ হয়ে গেছে একশ’র বেশি ফ্লাইট সেন্টার। এগুলো বিমানের টিকেট বিক্রির দোকান। যে ফ্লাইট সেন্টারগুলো এখনও চালু আছে তাদের কর্মীদের তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যেতে বলা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারনে প্রথম যারা কাজ হারাচ্ছেন তারা এসব ফ্লাইট সেন্টারের কর্মী। সুপার মার্কেট আর পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজ বাড়ার খবরের সঙ্গে নেগেটিভ খবরটি হলো এদেশে নতুন যারা তাদের কাজ পেতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুনদের জন্য ইদানিংকালের নতুন জনপ্রিয় একটি কাজের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল ডোর টু ডোর খাবার ডেলিভারি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে এই কাজের বাজারটিতে ধবস নেমেছে। আগে লোকজন দরোজা খুলতেই এমন ফুড ডেলিভারির লোক দেখেই খুশি হতেন। এখন উল্টো জীবানুবাহক কিনা ভেবে তাদের দেখেই ভয় পান। ফুড ডেলিভারির কাজ হারানো লোকজন ভিন্ন কাজের সন্ধানে ছুটছেন। 

করোনা নিয়ে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বড় খবরটি হলো দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটনের আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ওয়াশিংটনে একটি বৈঠকে গিয়েছিলেন ডাটন। সেখান থেকে দেশে ফিরেই অসুস্থবোধ করলে তিনি ব্রিসবেনের হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়ে। এর কারনে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকেও ডাটন অনুপস্থিত থাকেন। করোনা আতঙ্কে শুক্রবার সিডনিতে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সহ নির্ধারিত যে সব ব্যক্তি খেলা উপলক্ষে এসসিজিতে ঢুকেছেন তাদেরও রাখা হয়েছে বিশেষ দূরত্বে। আগামী রোববার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে। অথচ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের ক্রিকেটম্যাচ মানেই ছিল হৈহৈ পরিস্থিতি। প্রবেশ টিকেট থেকে শুরু করে নানান ব্যবসা-কাজের সংস্থান হয় এসসিজির খেলায়। আগামী সোমবার থেকে অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র পাঁচশ’র বেশি মানুষের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  

সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহরগুলোতে বাংলাদেশি গ্রোসারি শপগুলোয় বাড়তে শুরু করেছে চাল সহ বিভিন্ন ভোগ্যপন্যের দাম। ভারত-পাকিস্তান থেকে আসা বাসমতির চাল সহ নানান ভোগ্যপন্য প্রবাসীদের পছন্দ। সাধারন ঈদ বা কোন উৎসবেও এদেশে এসব পন্যের দাম বাড়েনা। করোনা পরিস্থিতির কারনে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়াতে দাম বাড়ার কথা বলছেন দোকানীরা। এমনিতে যে কোন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় খাদ্য সহ ভোগ্যপণ্যের ঘাটতির সুযোগ কম। কারন এর সিংহভাগ এদেশেই উৎপাদন হয়। প্যানিক বায়িং’এ এদেশের সুপার মার্কেটগুলোয় এখন পর্যন্ত টয়লেট টিস্যুর বিক্রি নিয়েই কাড়াকাড়ির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সুপার মার্কেটগুলোর কর্তৃপক্ষ বলেছে টয়লেট টিস্যুও নিয়েও কোন সংকট হবেনা। এগুলোর পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ১৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। অস্ট্রেলিয়ায় আক্রান্তরা চীন, জাপান, ইতালি, ইরান ও আমেরিকা থেকে আসা যাত্রী। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চীন, ইতালি, ইরান, দক্ষিন কোরিয়ার সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।  

ফজলুল বারী
fazlulbari2014@gmail.com

Facebook Comments

You may also like

ডাক্তারদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের শাস্তি কী

ফজলুল বারী:আমি আমার বন্ধুদের মজা করে একটা কথা