বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ফেসবুকে সমালোচনা-প্রতিবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ফেসবুকে সমালোচনা-প্রতিবাদ

145
0
সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ-এই তিনজন ধর্ষক। যেখানেই দেখবেন, এদের ধরিয়ে দিন।

রাজধানীর বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। ঘটনার দীর্ঘদিন পরও ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীকে হুমকি-ধামকি, মামলা এবং এর পরবর্তী নানান বিষয় উঠে আসছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের পোস্টে। অনেকেই ধর্ষণে অভিযুক্তদের ছবি ফেসবুকে দিয়ে বলছেন, তাদের ধরিয়ে দিতে। কেউ কেউ আবার তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বর্জনের আহবান জানিয়েছেন।

ফেসবুক থেকে কিছু পোস্ট তুলে ধরা হলো।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম একটি সংবাদের লিঙ্ক শেয়ার দিয়ে লিখেছেন,
আপনারা যারা সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, বিল্লাল হোসেন, সাদনান ও সাকিফকে চেনেন, তারা দয়া করে বনানী থানায় বিস্তারিত জানান এবং ছবি প্রকাশ করুন যেন অন্য কেউ তাদের খোঁজ দিতে পারে।

এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ প্রভাষ আমিন লিখেছেন,
সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ-এই তিনজন ধর্ষক। যেখানেই দেখবেন, এদের ধরিয়ে দিন। এদের ঠিকমত মানুষ করতে না পারায় এবং এখনও পুলিশের হাতে সোপর্দ না করায়, এদের পরিবারের সদস্যদের ঘৃণা করুন। সাফাতের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্সকে পর করুন। নাঈম আশরাফ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট করত। সাকিফ গুলশান লিঙ্ক রোডে পিকাসো রেস্টুরেন্ট ভবনের মালিকের ছেলে। সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল এবং অজ্ঞাতনামা দেহরক্ষী বসের কুকর্মের ভিডিও করেছে। ৫ কুলাঙ্গারের জন্য তীব্র ঘৃণা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন পুরানো একটি লেখা শেয়ার দিয়ে লিখেছেন,
আমি তো গয়না পরিনা, পিকাসোতেও খাই না। আমি বিচার চাই। ধর্ষণ নির্যাতনের শাস্তি চাই। গ্লানি মোছে না। জরা ঘোচে না। বৎসরের বিচারহীনতার ওপর শুধু নতুন বিচারহীনতা পাঁজা হয়।

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শরিফুল হাসান লিখেছেন,
পশুর চেয়ে অধম পুুরুষগুলোই যে শুধু ধর্ষক তাই নয়, এই রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের পুলিশ এমনকি ক্ষমতাশালীরাও অধিকাংশ সময়েই ধর্ষকের ভূমিকা পালন করে। ধর্ষকের পিতা তাই সগর্ব‌ে বল‌তে পারে যা হয়েছে সমঝোতার ভিত্তিতে হয়েছে। অা‌মি শুধু ভা‌বি ক‌তোটা বেহায়া হ‌লে একজন অমানুষ এমন কথা বল‌তে পা‌রে? অদ্ধুত এই রাষ্ট্র। এখা‌নে সগর্ব‌ে ঘু‌রে বেড়ায় ধর্ষকর অার জীবন যায় তনু‌দের। লজ্জায় কন্যাকে নিয়ে ট্রেনলাই‌নে আত্মহত্যা করে বাবা। অাচ্ছা অার ক‌তোটা পচ‌লে প‌রে হুশ হ‌বে এই রা‌ষ্ট্রের?

ন্যায্য বিচার হবে না এমন আশঙ্কা করে প্রকাশক রবীন আহসান লিখেছেন,
আমরা কিন্তু আগে দেখেছি এদেশের বড়লোক ব্যবসায়ীদের সন্তান খুনি তাদের বিচার হয়নি!
এবারও হবে না ! হয়তো আরও কয়েকটা ঘটনার বিচার হবে না! কিন্তু বিচার একদিন হাতেনাতে হবে! সে দিন ভাড়ায় খাটা মন্ত্রী-পুলিশ-আর্মি তাদেরও বিচার জনগণ করবে! সে হয়তো অনেক অনেক বছর পর! একটা দেশ তো এভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে না!

কানাডাপ্রবাসী কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল লিখেছেন,
আপন জুয়েলার্স, বর্জন করুন।

দৈনিক আমাদের সময়ের স্টাফ রিপোর্টার আলী আসিফ শাওন লিখেছেন,
বড়লোক-ছোটলোক-গরীব-উচ্চবিত্ত সব শ্রেণীর ধর্ষকের বিপক্ষে আমি। কিন্তু ফেসবুক আবার বড়লোকের পোলাপান ধর্ষণ না করলে সরব হয় না! বড়লোকদের মধ্যেও ক্যাটাগরি হয়, কারটা লেখা যাবে, কারটা যাবে না। অথচ কদিন আগে ধর্ষণের শিকার পিতা-কণ্যা হাজার টাকায় শালিসের পর আত্মহত্যা করলো, তখনো ফেসবুক এতো গরম দেখি নি। আসলে সাংবাদিকতার নিউজ ভ্যালুতে পড়েছিলাম, প্রোমিনেন্ট কেউ কিছু করলে তার নিউজ ভ্যালু বেশি। সংবাদের সেই ডেফিনেশন এখন ফেসবুকেও বলবৎ। পৃথিবীর সকল রেপিস্ট নিপাত যাক, সকল ধর্ষকের বিচারের জন্য আওয়াজ উঠুক সর্বত্র।

সিফাত বিনতে ওয়াহিদ লিখেছেন,
বনানীতে দুই প্রভাবশালীর সুপুত্র দ্বারা ধর্ষিত হলেন দুই নারী। ধর্ষকদের একজন ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার এবং অন্যজন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের বেজন্মা! পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায়নি, এটাই তো স্বাভাবিক। এই সেদিনই তো ঘটলো- দরিদ্র পিতা তার কন্যার সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারেননি, এবং এই ঘটনার বিচার চেয়েও পাননি বলে কন্যাসহ ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আমরা তো কত শত আয়েশা, তনু, ইয়াসমিন হারাচ্ছি প্রতিদিন- তাতে কি-ই বা যায় আসে? দেশই তো নানা দিক থেকে প্রতিদিন উপুর্যপরি ধর্ষিত হয়ে রক্তের সাগরে ভেসে যাচ্ছে! বিচার হয়েছে? বিচার পাচ্ছে কেউ?

বনানীর এই ঘটনায় আক্রান্ত দুই নারীকে তাদের এক বন্ধুই নাকি ডেকে নিয়ে যায় ঘটনাস্থলে; বন্ধু নির্বাচনেও সতর্ক থাকুন, বন্ধুর আর্থিক অবস্থান ছোট কি বড় তার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ- বন্ধুটি মানুষ হিসেবে কতটা যোগ্যতাসম্পন্ন। যত্রতত্র সবাইকে বন্ধু ভাবা থেকে বিরত থাকুন; জীবনে যত কম বন্ধু থাকবে, জটিলতাও তত কমবে। ক্ষেত্র বিশেষে বন্ধুও শত্রুর চেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠে। নির্জনে একা একা হিসাব করে নিন- কাকে আপনি বন্ধু ভাবছেন? (প্রিয়.কম)

Facebook Comments

You may also like

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ৬ দফা প্রস্তাব !

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন