মরুভূমিতে বাতাস থেকেই পানি উৎপাদন!

মরুভূমিতে বাতাস থেকেই পানি উৎপাদন!

302
0

মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশে পানির অভাব বড় সমস্যা৷ এক ডাচ শিল্পী ও উদ্ভাবক অভিনব উপায়ে বাতাস থেকেই পানি সৃষ্টি করতে চান৷ তাঁর পরীক্ষামূলক প্রকল্প মালির মরুভূমিতে সফলভাবে কাজে লাগানো হয়েছে৷
মালির মরুভূমিতে সূর্যের গনগনে উত্তাপের মাঝে পাঁচদিন ধরে নতুন এক উদ্ভাবনের ফল যাচাই করা হচ্ছে৷ দেখতে সাধারণ মনে হলেও দু’টি বাক্স আসলে এক শিল্পীর সৃষ্টি৷ নেদারল্যান্ডসের সেনাবাহিনী মালিতে তাদের শান্তি মিশনে এই আইডিয়া কাজে লাগাতে চায়৷ এখনো বড়ো আকারে তার প্রয়োগ সম্ভব না হলেও এর মাধ্যমে একদিন মরুভূমিতে পানি আনার সম্ভাবনা রয়েছে৷

সাহারা মরুভূমির মাঝে গাও অঞ্চলের জন্য এমন সম্ভাবনা সামরিক কমান্ডারের মনে ধরেছে৷ ডাচ সেনা ইউনিটের প্রধান জেনারেল টম মিডেনডর্প বলেন, ‘‘এমন প্রকল্প জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সাহায্য করতে পারে৷ পানির অভাবের মধ্যে আমরা স্থানীয় মানুষের জন্য বোঝা হতে চাই না, বরং তাদের আরও সাহায্য করতে চাই, এই এলাকায় সংকটের অন্যতম কারণের সমাধান করতে চাই৷ পানির জন্য তাদের সংঘর্ষে যেতে না হলে তো সমস্যার একটা অংশের সমাধান হয়ে যাবে৷’’

গড়ে তোলার কাজসহজ হলেও সমস্যা কম ছিল না৷ চারিদিকে বালু, উচ্চ তাপমাত্রা – যা এমনকি সোলার প্যানেলের জন্যও অত্যন্ত বেশি৷ যন্ত্র শীতল রাখার তরল পদার্থ নিয়েও সমস্যা রয়েছে৷ এই উদ্ভাবনের মূলে রয়েছে সোলার সেল ও সাধারণ কিছু বাক্স৷ বাক্সের গায়ে ধাতুর তৈরি হিটিং ব্যবস্থা লাগানো আছে৷ বাতাসের তাপমাত্রা বেশি হওয়া সত্ত্বেও তার উপর শীতল পানির বিন্দু তৈরি হয়৷ সবকিছু ঠিকমতো চললে সৌরশক্তি চালিত একটা ছোট পাম্প ভিতরেই তরল পদার্থকে শীতল রাখে৷ তখন বাতাসে আর্দ্রতা বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে৷ ২৪ ঘণ্টায় ৮ লিটার পরিষ্কার পানি পাওয়া যাবে৷ শিল্পী ও উদ্ভাবক হিসেবে আপ ফ্যারহেখেন বলেন, ‘‘অর্থ বা ব্যয় নিয়ে কথা হচ্ছে না৷ আমি বলতে পারি, যে আমরা নিজেরাই প্রকল্পের জন্য অর্থ দিচ্ছি৷ তাই সস্তার ও নির্ভরযোগ্য সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি৷’’

উদ্ভাবক একটি ছোট সংস্করণও তৈরি করেছেন, যা দিয়ে দিনে এক গ্লাস পানি সংগ্রহ করা যায়৷ তিনি গোটা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পে অংশ নেবার ডাক দিচ্ছেন, যাতে আরও উন্নত সরঞ্জাম তৈরি করা যায়৷ দ্য হেগ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল জাস্টিস-এর ড. পাট্রিক হুন্টইয়েন্স বলেন, ‘‘আরও পানি উৎপাদন করতে এই ইউনিটকে আরও নিখুঁত করে তুলতে হবে, কারণ দু’টিই আসলে প্রোটোটাইপ৷ কৃষিক্ষেত্রে ড্রিপ সেচের জন্যও এই সমাধানসূত্র বড় অবদান রাখতে পারে৷’’

এই উদ্ভাবন এখনো বড় আকারে প্রয়োগ করার সময় আসেনি৷ কিন্তু মরুভূমিতে এই আইডিয়া কাজে লাগিয়ে হাতেনাতে মৌলিক ফল পাওয়া গেছে৷ (ডয়েচ বেলা )

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’