সমুদ্র কিছু নেয় না-বোতলবন্দি চিঠি ফেরত দিল সমুদ্র

সমুদ্র কিছু নেয় না-বোতলবন্দি চিঠি ফেরত দিল সমুদ্র

611
0

অনলাইন ডেস্কঃ সমুদ্র কিছু নেয় না৷ সে সব ফিরিয়ে দেয়৷ যেমনটা হল বছর সাঁইত্রিশের মিরান্ডার সঙ্গে৷ তিন দশক আগে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দেওয়া বোতল বন্দি বার্তার সন্ধান পেলেন এই মার্কিন মহিলা৷ তবে এতে জুড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাহাত্ম্য৷ সৌজন্যে ফেসবুক৷

প্রায় তিন দশক আগে বোতলের মধ্যে একটি চিঠি গুঁজে তা সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন মিরান্ডা সভেজ৷ সে দিন ছিল ১৯৮৮ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর৷ মিরান্ডা তখন তার বয়স আট বছর৷ জর্জিয়ার ইডিস্টো সমুদ্রতটে বেড়াতে গিয়েছিল সে৷ খেলার ছলে আপন মনে একটি কাগজে কিছু কথা লিখেছিল৷ এরপর সেই কাগজটি বোতলে পুরে ভাসিয়ে দিয়েছিল সাগরে৷ বোতল বন্দি সেই বার্তায় সে লিখেছিল,‘‘ আমার নাম মিরান্ডা ডন মুজ৷ আমার বয়স আট বছর৷ আমি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি৷’’ কাগজে বাড়ির ঠিকানাও দেওয়া ছিল৷ তবে এতদিন বোতল বন্দি থাকায় কাগজের লেখাগুলি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে৷

আট বছরের মিরান্ডার বয়স আজ ৩৭ বছর৷ ছোট্টবেলার সেই ইডিস্টো সমুদ্রতটের স্মৃতি হয়তো এতদিনে ফিকে হয়ে গিয়েছিল তার৷ কিন্তু ছোটবেলার সেই স্মৃতি উস্কে একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ধান পেলেন সেই কাগজের৷ কিভাবে?

২৯ বছর পর সেই সমুদ্রতটে স্বামীকে নিয়ে গিয়েছিলেন লিন্ডা হামফ্রিস৷ সেখানে গিয়ে মিরান্ডার ছোট্ট বয়সে লেখা কাগজটির সন্ধান পান৷ আর দেরি করেননি৷ বার্তা প্রেরকের সন্ধান পেতে সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে কাগজটি পোষ্ট করলেন৷ মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় পোষ্ট৷ এই ভাবেই একদিন ফেসবুকে পোষ্ট চোখে পড়ে যায় মিরান্ডার৷ ২৯ বছর আগে স্মৃতির কথা ফের মনে পড়ে যায় তার৷ নিজেই জানিয়েছেন, ছোটবেলার স্মৃতি আনন্দই দিয়ে যায়৷

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’