বানর যখন বন্ধু কিংবা বন্ধু যখন বানর…

বানর যখন বন্ধু কিংবা বন্ধু যখন বানর…

1399
0

এখনো ভালো করে কথাই বলতে পারে না সে। আধো আধো বোলে যা বলে তাও মনুষ্য সমাজে দুর্বোধ্য। কিন্তু তার সমঝদারের কমতি নেই। সেই হয়ে উঠেছে জঙ্গলের বানরদের সঙ্গী, তার যতো ভাব-ভালোবাসা সব বানরদের ঘিরেই। এক কথায় বানররা তার ভালো বন্ধু, আর তার ভালো বন্ধুই বানররা!
সামারাথ বানগারি নামের ভারতের বছর দুয়েকের এই শিশুটিকে দেখা যায় গ্রামের অদূরেই জঙ্গলের বানরদের সঙ্গে খেলতে। এসময় তাকে অনেকটা বানরদের সঙ্গে সমআচরণ করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে শিশুটির কাকা বারামা রেড্ডি।
ব্যাঙ্গালুরু থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দূরে দুর্গম আল্লাপুরে বাস করে এই শিশুটি। খালিজ টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বারামা জানান, একদিন সামারাথের বাবা-মা তাকে নিয়ে মাঠে কাজ করতে যায়। সেখানে জঙ্গলের পাশেই সামারাথকে রেখে কাজ করছিল। হঠাৎ তাকিয়ে দেখে কিছু বানর শিশুটিকে ঘিরে আছে। তারা কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় শিশু সামারাথ বানরদের সঙ্গে দিব্যি বন্ধুত্ব করে ফেলেছে। এমনকি নিজেদের খাবার-দাবারও তারা ভাগাভাগি করে খাচ্ছে।
এর পর থেকে বানরদের সঙ্গে মিশতে না পারলে কান্নাকাটি করতো সামারাথ। সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভয়ে প্রথম প্রথম বানরদের কাছে না নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে সামারাথের কান্নাকাটিতে অতিষ্ঠ হয়ে নিয়ে যান। দেখতে পান বানরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বেশ উপভোগ্য শিশুটির। এরপর থেকে বানরগুলোও মাঝে মাঝে সাহস করে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসত।

ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের তৈরি করেছে আল্লাপুরে। (সূত্রঃ অর্থসূচক)

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’