অস্ট্রেলিয়া বব মারলের নামে মাকড়সা

অস্ট্রেলিয়া বব মারলের নামে মাকড়সা

353
0

বিশ্বখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব জ্যামাইকার বব মারলে গানে গানে বয়ান করে গেছেন কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শোষণ-নিপীড়নের কথা। বিজ্ঞানীরা এবার এই মানুষটার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মাকড়সার নতুন একটি প্রজাতির নাম দিয়েছেন, দেসিস ববমারলেই।

অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘেঁষে প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে নতুন প্রজাতির এই জলজ মাকড়সার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই প্রজাতির নারী ও পুরুষ মাকড়সার বিবরণ প্রকাশ করেছে জীববিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী এভল্যুশনারি সিসটেমেটিকস

দেসিস ববমারলেই সামুদ্রিক মাকড়সারই একটি প্রজাতি। তবে এই প্রজাতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা ডুবন্ত অবস্থায়ও বেঁচে থাকতে পারে। বব মারলের ‘হাই টাইড অর লো টাইড’ গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মাকড়সাটির নামকরণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। জোয়ারের সময় এই মাকড়সাগুলো নিজেদের আবাসে একধরনের সিল্ক প্রকোষ্ঠ তৈরি করে। এতে আবাসে পানি ঢুকতে পারে না। একই সঙ্গে এগুলো বাতাসপূর্ণ থাকে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হয় না। আবার ভাটার সময় আবাস থেকে বেরিয়ে এরা উপকূলে ছোট ছোট প্রাণী শিকার করে বেড়ায়।

তবে মাকড়সার নতুন এই প্রজাতি কেবল এ কারণেই বব মারলের নাম পায়নি। গবেষণা নিবন্ধটির সহলেখক কুইন্সল্যান্ড জাদুঘরের মাকড়সা বিশেষজ্ঞ বারবারা বায়ের বলেন, ‘বব মারলের “হাই টাইড অর লো টাইড” গানটি 
জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের বার্তা দেয়।’ দেসিস ববমারলেই প্রজাতির মাকড়সাগুলো প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম জাদুঘর অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের মাইক গ্রের কথাতেও দেসিস ববমারলেই প্রজাতির জীবনসংগ্রামের বিষয়টি উঠে এসেছে। এক ব্লগপোস্টে তিনি লিখেছেন, সিডনি বন্দর এলাকার অধিবাসীদের কাছে একসময় এই সামুদ্রিক মাকড়সাগুলো খুবই পরিচিত ছিল। কিন্তু দিনে দিনে এদের সংখ্যা এতটাই কমে এসেছে যে এখন বিলুপ্তপ্রায়। সিডনি বন্দরের মানুষদের কাছে এখন এ ধরনের মাকড়সা অপরিচিতই বলা চলে। (সূত্রঃ প্রথম আলো  )

Facebook Comments

You may also like

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী 

কাউসার খান:অস্ট্রেলিয়ার  জাতীয় সংসদে শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার ও ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। আজ সোমবার দেশটির জাতীয় সংসদে জাতীয় শিশু সপ্তাহ ২০১৮ উপলক্ষে দেয়া  ভাষণে তিনি শিশু যৌন নির্যাতনে ভুক্তভোগীদের কাছে এক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় শিশু যৌন নির্যাতনের শত শত ভুক্তভোগী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। ভাষণের সময় সংসদে পিনপতন মৌনতা বিরাজ করে। পরে ভুক্তভোগীদের সংগে দেখা করতে আজ সংসদের  সকল অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালে এই ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি রয়েল কমিশন দ্বারা অনুমোদন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড। তিনিও দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন আজ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের শুরুতেই মরিসন বলেন, ‘আজ অস্ট্রেলিয়া একটি আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, একটি ঘৃণা যা দীর্ঘদিন দৃষ্টি সীমানার বাইরে লুকিয়ে ছিল।’ ব্যথিত কণ্ঠস্বরে মরিসন বলতে শুরু করেন, ‘আজ আমরা মুখোমুখি হবো, নীরব কণ্ঠস্বরের, অন্ধকারের চাপা কান্নার।অস্বীকৃত অশ্রুর। অদৃশ্য দুঃখের অত্যাচারের।’   ভাষণের এক পর্যায়ে মরিসন লজ্জায় মাথা নত করে বলেন, ‘ যে শিশুদের আমরা নিরাপদে  রাখতে ব্যর্থ হয়েছি, আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যে বাবা মায়ের বিশ্বাস আমরা ভেঙে দিয়েছি, যারা সেই টুকরো টুকরো বিশ্বাসগুলোএকসাথে করতে সংগ্রাম করছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’ শিশু যৌন নির্যাতনে বেঁচে যাওয়াদের উদ্দেশ্য করে মরিসন বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্বাস করি ভালোবাসি, এই দেশ তোমাদের বিশ্বাস করে ভালোবাসে।’