ভারতীয় কামিনী বল এক নতুন ড্রাগ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে।

ভারতীয় কামিনী বল এক নতুন ড্রাগ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে।

করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীর অনেক মানুষই বিভিন্ন ধরণের আসক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে বগত বছর দুইয়ে। গত জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২১ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াযা বসবাসরত ভারতীয় অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকরা ভারত থেকে আমদানি করা ‘কামিনী বল’ নামে নতুন এক আয়ুর্বেদিয় ড্রাগে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এই বিষয়টি বের হয়ে এসেছে এক অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের আসক্তিকর ড্রাগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর জেরেমি হাইলার এর গবেষণায়। তিনি Metro North’s Mental Health Alcohol and Drug Service এর পরিচালক।
চমৎকার কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে উক্ত গবেষণায়। মারাত্মকভাবে কামিনী বল আসক্ত ১২ জনকে চিকিৎসা করতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন কিছু আশ্চর্য জনক তথ্য।
ডক্টর জেরেমি হাইলার দেখলেন, ১২ জনেই মধ্যে ১১ জনই পুরুষ এবং ভারতীয় জন্ম আর এক জন মহিলা যার সঙ্গীর জন্ম ভারতে। এই কামিনী বলে আসক্তিকর অপিয়াম (পপি ফুল থেকে সংগৃহিত) আছে এবং কিছুদিন কামিনী বল ব্যবহারের পরে ব্রেনের কোষ এবং শরীরের পেশিগুলোকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে, ঘুমে কমিয়ে দেয় , ধীরে ধীরে আসক্ত করে ফেলে এই বলে এবং না পেলে মেজাজ খিটখিটে করে ধ্বংসাত্মক মানসিকতা তৈরী করে ফেলে। তিনি আরও বলেন এই কামিনী বল খুবই সহজে পাওয়া যে যায় যেকোনো এশিয়ান/ ভারতীয় গ্রোসারির দোকানে , যদিও এখন শেলফে সরাসরি রাখা হয় না কিন্তু দাম দিলেই পাওয়া যায় সারা অস্ট্রেলিয়ার বড় শহরগুলোতে ( মেলবোর্ন, সিডনি , পার্থ , ব্রিজবেন) ড্র্যাগ এন্ড এলকোহল রিভিউ তাদের গবেষণায় আরো দেখেছে যারা ব্যবহার করছে তাদের গড় বয়স ৩২ এর কাছাকাছি এবং ব্যবহারকারীদের আসক্তির সময়কাল ৬ মাস থেকে ৮ বছর এবং সবাই কাজ করছেন। শুধু তাই না, তারা প্রত্যেকেই পারিবারিক জীবনে সুন্দর সম্পর্ক নিয়েই বসবাস করছিলেন।
কামিনী বল আসক্তরা দৈনিক ২টা থেকে ৩০ টা পর্যন্ত বল সেবন করেছে। প্রথম দিকে তাদের এই বল সেবন করার আগ্রহ জন্মায় লম্বা সময় কাজ করার শক্তি যোগায় এই কামিনী বল , এটাই ছিল প্রাথমিক ধারণা , এছাড়াও কেউ কেউ ইটা সেবন করতো যৌন উত্তেজক বড়ি হিসেবে।
ডক্টর জেরেমি হাইলার, আরো বলেন গত ২০ বছর ধরে আমি মাদক আসক্তদের সেবা করে আসছি কিন্তু কামিনী বল আক্রান্তদের সংখ্যা ছিলোনা তাতে , কিন্তু এখন বাড়ছে এবং আমার ধারণা অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরে আরো ভয়ানক অবস্থা। আমাদের চোখে কোনোদিন হয়তো ধরা পড়তো না যদি কামিনী বলের দাম ১১০ দলের থেকে বেড়ে ১৮০ ডলারে দ্রুত উঠে না যেতো। সাপ্লাই কম চাহিদা বেশি কিন্তু অনেকেই আর কিনতে পারছেন না বলেই চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তাই জানা গেলো এতো তথ্য।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করলেও অস্ট্রেলিয়ার ঔষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা Therapeutic Goods Administration (TGA) অবশ্য এই কামিনী বল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েচে ইতিমধ্যে।
সূত্র : এবিসি নিউজ

You may also like

সিডনিতে ন্যাশনাল স্পোর্টস ক্রিকেট ক্লাবের পুরস্কার বিতরণী

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ন্যাশনাল স্পোর্টস ক্রিকেট ক্লাবের বাৎসরিক পুরস্কার