অস্ট্রেলিয়ার যে সাংসদ বাংলায় অনর্গল কথা বলতে পারেন এবং বিরিয়ানি যার প্রিয় খাদ্য।

অস্ট্রেলিয়ার যে সাংসদ বাংলায় অনর্গল কথা বলতে পারেন এবং বিরিয়ানি যার প্রিয় খাদ্য।

অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় সংসদে একজন মহিলা সাংসদ একটি টকটকে লাল শাড়ি পরা অবস্থায় দেখলে সবারই একটু বিস্ময় লেগে যায় আর প্রশ্ন আসে মনে এও সম্ভব। হ্যা সম্ভব হয়েছে গত কয়েক মাস আগে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল সরকারের নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত সাংসদ মিসেস জানেতা ম্যাসকারেনহাস এর পক্ষে।

পেশায় জানেতা একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। গত ২৬ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার ৪৭ তম সংসদ নির্বাচনের পরে যারা শপথ নেন তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংসদ ছিলেন যাদের কয়েকজনের গায়ের রং কিংবা জন্ম অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার থেকে একটু ভিন্ন ছিল। আর তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মিসেস জানেতা। মিসেস জানেতা ১২ % সুইং ভোট পেয়ে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থের সোয়ান থেকে ১০১ বছর ধরে ধরে রাখা লিবারেল পার্টির সিটটিকে পরাস্ত করে লেবার পার্টি থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনেন।
তিনি বলেন “তার নির্বাচনে জয় একটি অবিশ্বাস্য সম্মান, কিন্তু এটাও স্বীকার করেছেন যে তিনি কখনই কল্পনা করেননি যে রাজনীতি তার পথ হবে।”
মিসেস জানেতার বাবা মা দুইজনের জন্ম ভারতের গোয়াতে। কাজের সন্ধানে ভারত থেকে তার বাবা মা দুজনেই কেনিয়া চলে যান এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়াতে অভিবাসিত হন। মিসেস জানেতা ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কালগুর্লির নিকেল খনির শহর কাম্বলডাতে জন্মগ্রহণ করেন। শহরটি বলতে গেলে বহুজাতিক ও বহুসংস্কৃতিক শহর হিসেবে পরিচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় চলে আসার পর, মিসেস জানেতার বাবা-মা তাকে এবং তার বোন ক্লেটাকে অনেক চেষ্টা করেছিলেন তাদের ভারতীয় গোয়া অঞ্চলের মাতৃভাষা ‘কোঙ্কনি’ যেনো শিখে কিন্তু সেটা তারা শিখতে ব্যর্থ হয়েছিল অথচ জানেতা অনর্গল বাংলা ভাষা বলতে পারেন। কিভাবে এইটা সম্ভব হয়েছে ? কারণ তিনি বিশ্বব্যাংকের ‘পানি ও স্যানিটেশন’ প্রোগ্রামের অংশ হিসাবে চাকুরীর জন্য বাংলাদেশে AUSAID এর একজন প্রতিনিধি হিসেবে এক বছর কাজ করেছেন। সেখানেই কাজের পাশাপাশি বাংলা ভাষা দারুণভাবে রপ্ত করেছেন। হিন্দি ভাষায়ও তিনি পারদর্শী।
তিনি রঙিন সালোয়ার কামিজ , শাড়ি তার প্রিয় পোশাক এবং বিরিয়ানি প্রিয় খাবার। এছাড়াও উপমহাদেশীয় বিভিন্ন খাবারের প্রতি তার ভালোবাসাকে অবিরত।
স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি পার্থের পূর্ব ভিক্টোরিয়া পার্কে আট বছর ধরে বসবাস শুরু করেন। নির্বাচনের সময় তিনি বলেছিলেন “আমি একজন মা, আমি মাল্টিকালটারাল পরিবেশের মধ্যে থাকি, আমি আমার সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত এবং আমিও একজন অন্য বর্ণের অস্ট্রেলিয়ান এবং একজন প্রকৌশলী। আমি একটি খনিতে স্টিল বুট পরে কর্মজীবন শুরু করেছি। তাই আমি মনে করি ,এইখানে অনেক লোকের গল্পের সাথে আমিও আপনাদের একজন এবং আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমি আপনাদের একজন শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে লড়াই করতে পারবো।”
তিনি আরও বলেন “আমাদের লিডারশীপে আরও বৈচিত্র্যে বৃদ্ধি দেখতে চাই অর্থাৎ মাল্টিকালটারাল ব্যাকগ্রাউন্ডের আরো জনপ্রতিনিধি সংসদে আসা দরকার তাহলে সমাজের খুঁটিনাটি অনেক বিষয় আরও বেশি প্রতিফলিত হবে। “
“আমি কখনই কল্পনা করিনি যে আমি ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারবো , আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কমিশন হাউজে বেড়ে উঠেছেন, তাই অস্ট্রেলিয়া নিয়ে আমার একটাই মন্তব্য , মানুষ চাইলে অস্ট্রেলিয়াতেই তার স্বপ্ন পূরণের জায়গায় যেতে পারবেই। “
হ্যা মিসেস মিসেস জানেতার আগেও ভারতীয় বংশোদ্ভভ লিসা সিং ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাজমানিয়া থেকে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

You may also like

বাংলা পাঠশালা পরিবার দিবস ২০২২ পালিত

গত ১৩ নভেম্বর সিডনির বারডিয়া উইকেন্ড বাংলা স্কুলে