প্রেক্ষাপটঃ “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ” এবং “একুশে’র বিশ্বায়ন”(শেষ পর্ব)

প্রেক্ষাপটঃ “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ” এবং “একুশে’র বিশ্বায়ন”(শেষ পর্ব)

103
0

নির্মল পাল : বায়ান্নের মহান একুশ ভারতবর্ষে সদ্য উত্থানকৃত ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ দ্বিজাতিতত্বের বিরুদ্ধে চরম কষাঘাত, পক্ষান্তরে ভাষাভিত্তিক সামাজিক ঐক্য-সম্প্রীতি সংরক্ষণের বিরল দৃষ্টান্ত, এবং সহাবস্থানের আবহমান দৃঢ় প্রত্যয় ও প্রেরণা; সর্বোপরি ইউনেস্কো’র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সোপানে একুশের চেতনাউন্নীত হয়েছে  বিশ্বের প্রচলিত সভ্যতা ও অবাধ-অহিংস সামাজ-সংস্কৃতি সংরক্ষণের “রক্ষা কবজ” হিসেবে। দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত ‘ভারতবর্ষ’ ১৯৪৭ সনে পরিণতি পায় ‘পাক’ ও ‘ভারত’ নামক ভিন্ন দুটি ধর্ম-বিশ্বাস ভিত্তিক দেশ হিসেবে। শুধুই ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর ভর করে অজ্ঞাত-অসম প্রকৃতি, পরিবেশ, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও সমাজের জোড়াতালিতে অভ্যুদয় ঘটে পূর্ব-পশ্চিমে সহস্র মাইলের ব্যবধানের ভূখণ্ডের সমন্বিত একটি দেশ পাকিস্তানের। ফলশ্রুতিতে তথাকথিত ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই খণ্ডিত হয় হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত বঙ্গ, কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবের প্রাচীনতম সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিক্ষা এবং অহিংস ধর্মীয় সমাজ ব্যবস্থা। পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাসের রাজনীতির কুটচালে বিভক্ত ভারতবর্ষের সকল ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপে অবাধ ভ্রমণ তথা ধর্মাচারও হয় অবরুদ্ধ, লংঘিত। ভাতৃপ্রতিম সৌহার্দপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাসের সংস্কৃতিতে অভ্যস্থ প্রাচীনতম ভারতবর্ষের সর্বত্র ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে নব্য সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে চিহ্নিত হওয়ার স্থায়ী বিদ্বেষপূর্ণ হিশেব-নিকেশ যুক্ত হয়। ফলে ভারতবর্ষের সর্বত্রই ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা কোন না কোনভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসের রাজনীতির খেসারতের ভারসাম্য রক্ষা করতে সামাজিক জীবনের বাস্তবতায় বিশেষ মুল্য দিয়ে চলেছে।

ধর্মীয় রাজনীতির বিশ্বাসে সদ্যস্বাধীনপ্রাপ্ত পূর্ব পাকিস্তানে(বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসের ঘোর কেটে উঠার আগেই শাসক সরকার এবং জনগণের মধ্যে সৃষ্ট ভাষাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রীয় নীতিগত ও সাংস্কৃতিক বিরোধ ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বাস্তবতা যে এক নয় সেই বাস্তব অনুভূতি সাধারণের মধ্যে জাগরিত করেছে। যা অতি দ্রুততার সাথে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং গণবিক্ষোপে পরিণতি পেয়ে বায়ান্নের একুশে’র উত্তরণ ঘটিয়েছে। রূপ নিয়েছে বাংলা সমাজ ও সংস্কৃতির চিরাচরিত অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ধারার সামগ্রিকতায় “একুশের চেতনা” হিসেবে। মাতৃভাষা মানবসভ্যতা ও সামাজ গঠনে যে প্রাথমিক এবং প্রধানতর প্রয়োজন, পারস্পরিক ভাব বিনিময় ও সামাজিক বন্ধন সৃষ্টির ক্ষেত্রে অপরিহার্য, তথা অন্য যেকোন মত, আবেগ বা বিশ্বাসের চেয়েও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী, তাবৎ বিশ্বসমাজে “একুশের চেতনা” তারই পরীক্ষিত উদাহরণ।  বিশ্বদরবারে সেই বিরল গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার কারনেই মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসম্মানে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মত এই সিদ্ধান্ত আধুনিক সভ্যসমাজে রাজনৈতিক মত/ভিন্নমত, ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিষ্টাচার সবকিছুর প্রয়োজন মিটাতেই যে মাতৃভাষার অনিবার্যতা অপরিহার্য, “একুশের চেতনা” আধুনিক বিশ্ববাসীকে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে উজ্জীবিত করে নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণে উৎসাহিত করবে।

অপ্রিয় হলেও বাস্তব, একুশের চেতনায় ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে অর্জিত স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী বছর পরও বাংলাদেশে দ্বিজাতিতত্বের ভিত্তি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ মানসিক ব্যাধির জাল সুনিপুণভাবে সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বিন্যস্থ, এবং একুশের চেতনার উন্মেষের সাথে নীরব অথচ গভীর সংঘাতে লিপ্ত, তাবৎসমাজ ধর্মীয় বিভেদ বনাম সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি গভীরদ্বন্দে জর্জরিত, অনেক ক্ষেত্রে নিষ্পেষিতও বটে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একুশের চেতনার উজ্জীবনী নিত্যপ্রতীক ‘মহান শহীদ মিনার’এর উপস্থিতিই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তি ধর্মীয় বিশ্বাসের বিপরীতে ‘একুশের চেতনা’র প্রাত্যহিক সামাজিক জীবনব্যবস্থার অনিবার্যতার দ্বান্দিকতার মাত্রা নির্ণায়ক হিসেবে যথেষ্ট। প্রচলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতকরা ১০০ ভাগ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও পক্ষান্তরে প্রায় শতকরা ১০০ ভাগ মাদ্রাসায় ‘শহীদ মিনার’এর অনুপস্থিতি উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়। যদিও সামগ্রিকভাবে ‘একুশের চেতনা রাজনৈতিক বা ধর্মান্ধতার সকল সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করেই আমাদের জাতীয় পর্যায়ে এবং ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার সুবাদে আন্তর্জাতিক পরিসরে সামাজিক সাম্য, ভাতৃত্ব ও ঐক্য সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করার ভিত্তি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত বলা যায় ।

মাত্র বাহাত্তর ঘণ্টার মধ্যেই মহান একুশের চেতনার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া, উদ্দীপনা এবং অনুপ্রেরণার মনুমেন্টাল স্থাপনার সৃষ্টি ঘটে মাত্র হাতে গুনা কয়েকজনের নির্ভীক মাতৃভাষাপ্রেমীর নিভৃত প্রতিবাদী স্থাপত্য “শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। যে স্থাপনা জনসমক্ষে পরিচিতি পাওয়ার আগেই পাকীদের বুটের আঘাতে গুড়িয়ে দেয়া হলেও সময়ের সাথে, সামগ্রিক প্রয়োজনে ও জাতীয় প্রাতিষ্ঠানিকতায় “শহীদ মিনার” নামে মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার স্থাপত্য প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে ছড়িয়ে পরে বাংলার সর্বত্র, সময়ের সাথে সাথে স্থিত-স্থাপত্য স্থাপনা থেকে ব্যক্তি মননশীলতায় জাতীয় চেতনার স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠে, আমজনতা তথা সাধারণ সকল মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা যোগীয়ে উজ্জীবিত করে স্বাধিকার আন্দোলনে, যা পর্যায়ক্রমে পরিণতি পায় গণঅভ্যুত্থানে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঝাঁপিয়ে পরে স্বাধীনতার যুদ্ধে, ছিনিয়ে আনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা। জাতীয় শহীদ মিনারের প্রজ্জলিত লাল রক্তিম সূর্য উন্নীত হয়ে স্থান করে নেয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কালীন স্বাধীনতার জাতীয় পতাকায়। বাংলাভাষা আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গে সৃষ্ট একুশের চেতনা বিধৃত ‘শহীদ মিনার’ স্থাপত্য স্থাপনা নিঃশব্দ বার্তার স্ফীত সম্প্রচার, বিরামহীন প্রতিবাদের সঞ্চারে সৃষ্ট গণবিস্ফোরণের ফসলই বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন এবং আমাদের গর্বিত স্বাধীনতা, বিশ্বের ভাষাভিত্তিক একমাত্র স্বাধীনদেশ, “বাংলাদেশ”; বলা যায়, “শহীদ মিনার” যার মূর্তপ্রতীক।

অকুতভয় মাত্র ক’জন একুশে চেতনাদীপ্ত যুবকের সৃষ্ট মনুমেন্টাল স্থাপনা “শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’ যেমন অচিরেই বাংলা ভাষাভাষীদের মনে গভীর আবেগ এবং অনুভূতির সঞ্চারণ করে জাতীয়ভাবে রূপ নিয়েছে “শহীদ মিনার”এ, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে মহান একুশের চেতনা‘র প্রতীকী স্থাপত্যে, উজ্জীবিত করেছে স্বাধিকার আন্দোলনকে, এনে দিয়েছে মহান স্বাধীনতা, তেমনি করে ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা সমূহের অবক্ষয় রোধের বৈশ্বিক প্রয়োজনে ঐতিহাসিক একুশে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো ঘোষিত “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”এর প্রেক্ষাপটে শহীদ মিনারের আদলে অস্ট্রেলিয়া অভিবাসী সকল ভাষাভাষীদের সমন্বয়ে রূপায়িত “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ” পৃথিবীর সকল ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে বিশ্বদরবারে স্থান করে নিবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়, যা শুধুই সময়ের অপেক্ষামাত্র।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধের স্থাপত্য নকশায় ঝুঁকিপূর্ণ সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের চেতনাউদ্দীপক কন্সারভ ইউর মাদার ল্যাংগুয়েজ বৈশ্বিকবার্তা, মহান একুশের ঐতিহাসিক তথ্যাদি, ভাষা শহীদদের নাম, ‘শহীদ মিনার’ এর প্রতিচ্ছবির সাথে সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিশ্বায়নের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সকল ভাষাভাষীর অংশগ্রহণের আভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি ইউনেস্কোর প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধে প্রথম মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা বর্ণমালার স্থায়ী অবস্থানের মাধ্যমে যেকোন ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা সংরক্ষনে সংশ্লিষ্ট ভাষাভাষীদের অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত, এবং শহীদ মিনারের ছাপ  একুশের ঐতিহাসিক ভিত্তিকে বিশ্বায়নের ধারায় সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের সাথে যোগসূত্র সৃষ্টির সুযোগ করে দিয়েছে।  বিশ্বপরিমণ্ডলে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ” সকল মাতৃভাষাভাষীর কাছে বাংলাভাষা আন্দোলনের মহান শহীদ মিনারেরই বৈশ্বিক প্রতিচ্ছবি, তথা একক বাংলা ভাষার অনুকরণে সকল ঝুঁকিপূর্ণ ভাষা সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্করণ, যেমনি বাংলার মহান শহীদ মিনারের ভিত্তি রচিত হয়েছে প্রাথমিকভাবে সৃষ্ট মনুমেন্টাল স্থাপনা “শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’  থেকে। বয়স, শিক্ষা, পদ, যশ, প্রতিপত্তি অথবা সামাজিক অবস্থানের সাথে সমন্বয়করে বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্বের ‘নাম’ যেমন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ বিশেষণে উন্নীত হয়, তেমনি মাতৃভাষা বাংলা রক্ষার প্রাথমিক প্রতীকী স্থাপত্য “শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’  থেকে জাতীয় প্রতীকী মর্যাদায় শহীদ মিনার নামাকরন, এবং একই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আঙ্গিকে বৈশ্বিক মাতৃভাষা সংরক্ষণের প্রতীকের মর্যাদার “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ” এর নামে উত্তরণ বাংলা ভাষা ভিত্তিক বায়ান্নের মহান একুশের চেতনার জাতীয় পর্যায় থেকে বিশ্বের সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণভিত্তিক বৈশ্বিক চেতনায় উত্তরণ। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন শহর বন্দর বা প্রতিষ্ঠানসমূহে যে স্থাপনার উপস্থিতি পৃথিবীর সকল ভাষাভাষীর কাছে নিজ নিজ ভাষা অবক্ষয় রোধের কারন চিহ্নিত করা থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ প্রতিকারে উতসাহ যোগাবে, এবং ইউনেস্কোর ঘোষিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন হবে সকল ভাষাপ্রেমিকের কাছে বিশেষভাবে অর্থবহ, সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে সহনশীল পরিচর্যার আওতায় আসবে ঝুঁকিপূর্ণ মাতৃভাষা সমূহ।

ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের প্রতীকী স্থাপত্য “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ” এর মধ্য দিয়েই মাতৃভাষা বাংলা’র সাথে সকল ভাষাভাষীর পরিচিতিসহ বাংলাভাষা রক্ষার ইতিহাস, শহীদ মিনারের উপস্থিতি এবং একুশের চেতনার মৌলিক উপাদান সমূহের পরিচিতি হবে যেকোন মাতৃভাষা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাষাভাষীর অনুপ্রেরণার উৎস। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের গৃহীতব্য এতদসংক্রান্ত কূটনৈতিক কার্যক্রমসহ পৃথিবীর সর্বত্র বসবাসকারী প্রবাসী/অভিবাসী বাংলাদেশীদের সমন্বিত সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে অন্যান্য ভাষাভাষীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হবে। সকল ভাষাভাষীদের সম্মিলিতভাবে একুশের চেতনায় উদ্ভুদ্ধকরনের মাধ্যমেই বাংলার সংস্কৃতি-কৃষ্টির পাশাপাশি একুশের গৌরবগাঁথা ইতিহাসের সাথে অন্যান্য সকল ভাষাভাষীর স্থায়ী পরিচিতি লাভ সম্ভব হবে, যার ফলশ্রুতিতে বিশ্বের সকল ভাষাভাষীর আগামী প্রজন্মের কাছে ভাষা হিসেবে ‘বাংলা’ হবে বিশ্বনন্দিত, এবং জাতি হিসেবে ‘বাঙালি’ হবে সম্মানিত।

[সমাপ্ত]

[পরবর্তী ধারাবাহিক লেখাঃ “লাইব্রেরীতে একুশে কর্নার – একুশের চেতনার বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানিক দর্শন”]                  

লেখক পরিচিতিঃ নির্মল পাল; ইমেইলঃ nirmalpaul@optusnet.com.au

প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারপারশনঃ             এমএলসি মুভমেন্ট ইনটারন্যাশন্যাল ইনক

প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নকারী দলনেতাঃ      পৃথিবীর প্রথম “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ”

প্রকাশিত গ্রন্থঃ                           “বিশ্বায়নে শহীদ মিনার”

বৈশ্বিক দর্শনঃ                            “লাইব্রেরীতে একুশে কর্নার”, (স্থানীয় বর্ণমালা সংরক্ষণ কেন্দ্র)

Facebook Comments

You may also like

“ক্যাম্পাসের দিনগুলি মোর”

ভার্সির্টির ওই দিনগুলি কি আসবে আমার ফিরে তাইতো