বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা এন্ড কালচার (BSPC) আয়োজিত সরস্বতী পূজা

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা এন্ড কালচার (BSPC) আয়োজিত সরস্বতী পূজা

গত ২৪শে জানুয়ারি শনিবার বিএসপিসি সিডনির অদূরে ওয়েন্টওয়ার্থভিল রেডগাম সেন্টারে প্রতি বছরের মতো এ পূজার আয়োজন করেছিলো। সকাল ১০ টা থেকে রাত অবধি এ অনুষ্ঠানে সমস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তরা উপস্থিত হয়েছিলেন। সিডনির বিগ বি পুরোহিত শ্রী বাসব রায়ের সঞ্চালনায় পূজা সম্পন্ন হয়। আগত ভক্তবৃন্দ বিদ্যাদেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন ও প্রণামমন্ত্র পাঠ করেন। এরপর শিশুদের হাতেখড়ি অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ছোট্ট সোনামনিদের এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অপরাহ্নে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে বিএসপিসি বাংলা স্কুলের সদস্যবৃন্দ ও সোসাইটির কুশীলববৃন্দ নাচ, গান ও অন্যান্য কৃষ্টিশৈলী পরিবেশন করেন। আগত ভক্তদের জলযোগ, প্রসাদ, মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।
প্রতিবছরের মতো এবারেও মন্দির ফান্ডের জন্য এক র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানশেষে সোসাইটির সভাপতি সুরজিত রায় ও অন্যান্য সদস্যরা আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ও পরবর্তী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, সরস্বতী পূজা হল জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শান্তি, সঙ্গীতের বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বিদ্যা ও বুদ্ধির কৃপালাভের জন্য এই পূজা। এই পূজাকে বাণী অর্চনাও বলা হয়। এটি জড়-জগতে চিন্তার সৃজনশীলতা এবং জ্ঞানের জন্য একটি প্রার্থনা। যেখানে তথ্য সর্বত্র রয়েছে কিন্তু জ্ঞানের খুব অভাব। জ্ঞান ও মেধা অর্জনের জন্য সরস্বতী পূজার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত অগ্রগতি কেবল তথ্য তৈরির মাধ্যমেই নয় বরং বোধগম্যতা বিকাশ, সুবিচার এবং জ্ঞানের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আসে। এই বার্তাটি বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য, পেশাদারদের জন্য এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এই পূজা মানুষকে সামগ্রিকভাবে একত্রীকরণ ও সম্প্রদায়কে আবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য, শ্রদ্ধা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করে।
বক্তারা আরো বলেন যে এবছর পূজা উদযাপন সমভাবে আনন্দ এবং বেদনার। বর্তমান বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অমানবিক নির্যাতন, হত্যা ও সহিংসতা আমাদের হিন্দু ভাইবোনদের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক। আমরা প্রার্থনা করি যে প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের প্রয়োগে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে অস্ট্রেলিয়াতে আমরা সবাই একত্রে বাধাহীন ভাবে পূজা অর্চনা সম্পন্ন করতে পারছি। আজ এই বিশেষ দিনে আমরা প্রার্থনা করছি যেন দেশে-বিদেশে সব সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি পুনরুদ্ধার করা হয়।
 সভাপতি তাঁর শুভেচ্ছা বাণীতে জানিয়েছেন যে সিপিসিএল ও বিএসপিসি সদস্যরা তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ও স্বপ্নের মন্দির নির্মাণের জন্য ব্ল‍্যাকটাউনে একটি বিশাল জমি অধিগ্রহণ করেছেন। তিনি সবাইকে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।